স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে জল্পনা, পার্লামেন্টে ফিরতে চান অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতৃত্ব নিয়ে কয়েকদিন ধরেই জোর আলোচনা চলছে। দলটির নেতা কিয়ার স্টারমারের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির মধ্যেই গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি আবারও ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ফিরতে চান। বার্নহ্যামকে স্টারমারের সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এ লক্ষ্যে নর্থ ওয়েস্ট ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের লেবার এমপি জশ সাইমন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফলে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জশ সাইমন বলেন, এটি তার জন্য “কঠিন সিদ্ধান্ত” ছিল। তবে তিনি মনে করেন, বার্নহ্যাম নির্বাচিত হলে দেশের মানুষ যে পরিবর্তন চায় তা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।

এদিকে সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এবং লেবার পার্টির উপনেতা লুসি পাওয়েল প্রকাশ্যে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। পাওয়েল বলেছেন, তিনি বার্নহ্যামের ওয়েস্টমিনস্টারে ফেরার প্রচেষ্টাকে “পূর্ণ সমর্থন” দেবেন। আর স্ট্রিটিংয়ের মতে, মেকারফিল্ডে জয়ের সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা বার্নহ্যামেরই।

তবে স্টারমারের নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানাতে হলে বার্নহ্যামকে এখনো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হতে হবে। প্রথমত, উপনির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির অনুমোদন লাগবে। এরপর তাকে নির্বাচনে জিতে এমপি হতে হবে। তারপর স্টারমারের বিরুদ্ধে নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে কমপক্ষে ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে, রিফর্ম ইউকের উপনেতা রিচার্ড টাইস ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দল মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে “সব শক্তি” দিয়ে লড়বে এবং “ভূমিকম্পের মতো” জয় আনার চেষ্টা করবে।

মেকারফিল্ডের সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ বার্নহ্যামের প্রার্থিতাকে “দারুণ” বলে অভিহিত করেছেন, আবার কেউ বলেছেন, মানুষ এখন লেবার পার্টির ওপর বিরক্ত ও হতাশ।