নাইজেল ফারাজ ক্ষমতায় এলে কী হবে ইমিগ্রেন্টদের ভবিষ্যৎ?

নাইজেল ফারাজ এবং তার দল রিফর্ম ইউকে (Reform UK) মূলত ইমিগ্রেশন বিরোধী এবং “ব্রেক্সিটপন্থী” কট্টর রাজনীতির জন্য পরিচিত। ২০২৬ সালের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তিনি যদি ক্ষমতায় আসেন, তবে অভিবাসীদের (বিশেষ করে যারা বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আছেন বা আসার পরিকল্পনা করছেন) ভবিষ্যৎ ব্যাপক পরিবর্তনের সম্মুখীন হতে পারে।

ফারাজ এবং তার দল দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। ব্রেক্সিট-পরবর্তী রাজনীতিতে তাদের এই অবস্থান আরও দৃশ্যমান হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, তারা ক্ষমতায় গেলে অভিবাসন ব্যবস্থায় কড়াকড়ি অনেক বেড়ে যেতে পারে।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি এবং রাজনৈতিক অবস্থান বিশ্লেষণ করলে নিচের বিষয়গুলো উঠে আসে:

১. নতুন অভিবাসনে “ফ্রিজ” বা স্থবিরতা
ফারাজ ঘোষণা করেছেন যে তিনি ‘নন-এসেনশিয়াল’ বা অপ্রয়োজনীয় অভিবাসন পুরোপুরি বন্ধ বা ‘ফ্রিজ’ করবেন। শুধুমাত্র স্বাস্থ্যসেবার মতো জরুরি খাতে সীমিত সংখ্যক কর্মী আসার সুযোগ পেতে পারেন। সাধারণ কর্মসংস্থান বা ফ্যামিলি ভিসার ক্ষেত্রে এটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

২. স্থায়ী বসবাসের সুযোগ (ILR) বাতিল বা পরিবর্তন
সবচেয়ে বড় ভয়ের কারণ হতে পারে তার Indefinite Leave to Remain (ILR) বা স্থায়ী বসবাসের সুযোগ বাতিলের প্রস্তাব। তিনি চাইছেন ILR-এর পরিবর্তে ৫ বছরের নবায়নযোগ্য ভিসার ব্যবস্থা করতে। এর ফলে যারা দীর্ঘকাল থাকার পর স্থায়ী নাগরিক হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

৩. গণ-ডিপোর্টেশন বা বহিষ্কার
তিনি ‘অপারেশন রিস্টোরিং জাস্টিস’ নামে একটি পরিকল্পনা দিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো অবৈধভাবে আসা অভিবাসীদের দ্রুত বহিষ্কার করা। এমনকি গত ৫ বছরে যারা এসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন, তাদের ফাইল পুনরায় যাচাই করে প্রয়োজনে দেশছাড়া করার হুমকিও তিনি দিয়েছেন।

৪. সুযোগ-সুবিধার ওপর বিধিনিষেধ
• পাবলিক ফান্ড: শুধুমাত্র ব্রিটিশ নাগরিকরাই সরকারি সাহায্য (Benefits) পাবেন—এমন নিয়ম করার পরিকল্পনা রয়েছে তার।
• অতিরিক্ত ট্যাক্স: বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দিলে নিয়োগকর্তাদের ওপর বাড়তি ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ট্যাক্স (২০% পর্যন্ত) আরোপ করার কথা বলা হয়েছে, যা বিদেশিদের জন্য চাকরির সুযোগ কমিয়ে দেবে।

৫. আশ্রয়ের ক্ষেত্রে কঠোরতা
তিনি যুক্তরাজ্যকে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন (ECHR) এবং শরণার্থী কনভেনশন থেকে সরিয়ে নিতে চান। এটি করলে সরকার চাইলেই যেকোনো শরণার্থীকে আইনি জটিলতা ছাড়াই বহিষ্কার করতে পারবে এবং কোনো লিগ্যাল এইড বা আইনি সহায়তা তারা পাবেন না।

নাইজেল ফারাজের ক্ষমতা আসা মানে হবে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতিতে আমূল এবং অত্যন্ত কঠোর পরিবর্তন। এটি বর্তমান ইমিগ্রেন্টদের জন্য সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বড় সংকট তৈরি করতে পারে।

তবে বাস্তবে এসব নীতি কার্যকর করা সহজ নয়। যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি গণতন্ত্র ও আদালত ব্যবস্থা যেকোনো কঠোর সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।