লন্ডন বাংলা টাইমস ডেস্ক: বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে ১২ বছরের শিশুসহ একাধিক নাবালিকাকে ধর্ষণের দায়ে লন্ডনে এক ব্যক্তিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডিত আব্দুল হালিম খান (৫৪) একজন ভারতীয় নাগরিক এবং পূর্ব লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটসের ওল্ড ফোর্ড রোডের বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন।
গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্ট সাত ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে ২১টি যৌন অপরাধের দায়ে তাকে এই দীর্ঘমেয়াদি সাজা শোনান।
যেভাবে সামনে এলো এই নৃশংসতা
এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে, যখন সবচেয়ে কম বয়সী ভুক্তভোগী শিশুটি তার স্কুলের এক শিক্ষককে ইমাম আব্দুল হালিমের কুকীর্তির কথা জানায়। এরপরই নড়েচড়ে বসে মেট্রোপলিটন পুলিশ। দীর্ঘ আট বছরের এই জটিল তদন্তে গোয়েন্দারা ৫০ জনেরও বেশি সাক্ষীর জবানবন্দি নেন এবং তথ্য-প্রমাণ ও ডিজিটাল এভিডেন্সের জন্য ১০টি মোবাইল ফোন পরীক্ষা করেন।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আব্দুল হালিম খান বারবার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। উল্টো দাবি করেন, ভুক্তভোগীরা তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। তবে সমস্ত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্যের ভিত্তিতে চলতি বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
তার বিরুদ্ধে প্রমাণিত ২১টি অপরাধের মধ্যে রয়েছে:
- ৯টি ধর্ষণের মামলা
- ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে ধর্ষণের ৫টি মামলা
- ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুকে যৌন নিপীড়নের ২টি মামলা
- ৪টি সাধারণ যৌন নিপীড়নের মামলা
- ১টি ‘অ্যাসাল্ট বাই পেনিট্রেশন’ (Assault by penetration)-এর মামলা
“কোনো শিশুর যেন আমার মতো পরিণতি না হয়”
রায় ঘোষণার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অন্যতম এক ভুক্তভোগী। পুলিশের কাছে মুখ খোলাকে নিজের জীবনের অন্যতম কঠিন সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে তিনি বলেন:
“দীর্ঘ আটটি বছর পর আজ আমি স্বস্তি পাচ্ছি যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই রায়ের পরও ভেতরের ট্রমা বা ক্ষত কিন্তু রাতারাতি মুছে যায় না। এই দাগ আজীবন থেকে যাবে, আর তা কাটিয়ে ওঠার লড়াইটাও আজীবনের। মুখ খোলাটা ভীষণ ভীতিজাগানিয়া ছিল, কিন্তু এটাই আমাকে আমার হারিয়ে যাওয়া শক্তি ফিরে পেতে সাহায্য করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আশা করি আমার এই পদক্ষেপ অন্য ভুক্তভোগীদের সাহস জোগাবে। তারা যেন বোঝে যে তারা একা নয়, এতে তাদের কোনো দোষ ছিল না। কোনো শিশুর যেন কখনো আমার মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়। আমাদের সবার দায়িত্ব শিশুদের রক্ষা করা এবং তাদের বিশ্বাস করা।”
পুলিশের বক্তব্য
মামলার প্রধান তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, “আব্দুল হালিম খান নিজেকে একজন সম্মানিত এবং বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে সমাজে জাহির করতেন। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। সে মানুষের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে।”
তিনি ভুক্তভোগীদের অসীম সাহসের প্রশংসা করে বলেন, “আজকের দিনটি সেই সাহসী মেয়েদের, যারা বুক চিতিয়ে এই অপরাধীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। আমরা আশা করি, এই রায় তাদের নতুন করে জীবন সাজাতে কিছুটা হলেও শান্তি দেবে। লন্ডন থেকে এমন বিপজ্জনক অপরাধীদের নির্মূল করতে এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
