আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর দিকে ধেয়ে আসা চারটি ইরানি “ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন” ভূপাতিত করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক সামুদ্রিক চলাচলের জন্য তাৎক্ষণিক হুমকি সৃষ্টি করেছিল।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানায়, ড্রোনগুলো ধ্বংস করার পর ভবিষ্যৎ হামলার আশঙ্কা মোকাবিলায় ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে অবস্থিত উপকূলীয় নজরদারি রাডার স্থাপনাগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালানো হয়।
তবে এ ঘটনার বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি ইরান।
সাম্প্রতিক এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন কয়েকদিন আগেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে। এতে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান নাজুক যুদ্ধবিরতি আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এরই মধ্যে বুধবার কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
এই হামলার দায় অস্বীকার করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি ইরানি হামলার কারণে নয়; বরং একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার ত্রুটির ফল।
অন্যদিকে সেন্টকম আইআরজিসির এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বিমানবন্দরে হামলাটি ছিল ইরানের “পরিকল্পিত, হিসাবকৃত এবং অযৌক্তিক” আক্রমণ।
এর আগে আইআরজিসি জানিয়েছিল, ইরানের একটি তেলবাহী জাহাজ এবং কেশম দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
