তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবির থেকে শুরু হওয়া যাত্রা পৌঁছে গেল বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে। আর সেই মঞ্চেই ইতিহাস গড়ে নিজের নাম লিখিয়ে ফেললেন অস্ট্রেলিয়ার ২০ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড নেস্টরি ইরানকুন্ডা।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তুরস্কের বিপক্ষে ২-০ গোলের জয়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে প্রথম গোলটি করেন ইরানকুন্ডা। এই গোলের মাধ্যমে তিনি সকারুদের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপ গোলদাতার রেকর্ড গড়েন। পাশাপাশি বিদেশি বংশোদ্ভূত প্রথম ফুটবলার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে বিশ্বকাপে গোল করার কীর্তিও নিজের করে নেন।
তবে এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে সাহসী এক সিদ্ধান্তের গল্প। ২০২৪ সালে অ্যাডিলেড ইউনাইটেড থেকে জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দিয়ে আলোচনায় আসেন ইরানকুন্ডা। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবে জায়গা পেলেও মূল দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ ছিল সীমিত। হ্যারি কেইনের মতো তারকাদের সঙ্গে অনুশীলন করলেও ম্যাচের অভাব তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়।
নিয়মিত খেলার সুযোগ না পাওয়ায় একসময় অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় দল থেকেও বাদ পড়েন তিনি। তখনই বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে বড় ঝুঁকি নেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন শুধুমাত্র নিয়মিত মাঠে থাকার লক্ষ্য নিয়ে।
নিজের সেই সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে ইরানকুন্ডা বলেন, “এটি অত্যন্ত কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। ২০২৬ বিশ্বকাপ দ্রুত এগিয়ে আসছিল এবং আমার নিয়মিত ম্যাচ খেলা প্রয়োজন ছিল।”
ওয়াটফোর্ডের হয়ে ৪২ ম্যাচে চার গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্ট করে তিনি নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। সেই পারফরম্যান্সই তাকে আবার ফিরিয়ে আনে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে।
তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে নিজের গতি ও শক্তির দুর্দান্ত প্রদর্শনীতে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ইরানকুন্ডা। গোলের পর অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি টিম কাহিলের বিখ্যাত ‘কর্নার ফ্ল্যাগ পাঞ্চ’ উদযাপনের মাধ্যমে নিজের অনুপ্রেরণার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় ইরানকুন্ডা বলেন, “এটা অবিশ্বাস্য। আমার স্বপ্ন সত্যি হয়েছে।”
তার সতীর্থ মোহাম্মদ তুরে মজা করে তাকে ‘হুডিনি’ আখ্যা দেন এবং খেলার ধরনে জুড বেলিংহ্যামের সঙ্গে তুলনা করেন। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক কোচ অ্যাঞ্জ পোস্টেকোগলুও তরুণ ফরোয়ার্ডের প্রশংসা করে বলেন, “একটি ভালো বিশ্বকাপ একজন খেলোয়াড়ের পুরো পৃথিবী বদলে দিতে পারে।”
বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজের প্রথম গোলেই ইতিহাস গড়া ইরানকুন্ডার গল্প প্রমাণ করে, বড় স্বপ্ন পূরণে কখনো কখনো সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তই সবচেয়ে বড় সাফল্যের পথ তৈরি করে দেয়।
