তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে রেকর্ডসংখ্যক জরুরি কলের চাপে পড়ে লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস (LAS)। শুক্রবার একদিনেই ৯৯৯ নম্বরে মোট ৮,৮৬৯টি জরুরি কল গ্রহণ করা হয়, যা সংস্থাটির ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ। সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় ৫০০টিরও বেশি জরুরি কল আসে।
এদিন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ৬৮৮টি ক্যাটাগরি-১ জরুরি পরিস্থিতির সাড়া দেয়। এসবের মধ্যে ছিল হৃদ্রোগে আক্রান্ত, শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অন্যান্য জীবন-সংকটাপন্ন রোগী। সংস্থাটি জানায়, এই চাপ মে মাসের তাপপ্রবাহ এবং কোভিড-১৯ মহামারির সর্বোচ্চ সময়ের চেয়েও বেশি ছিল।
ক্রমবর্ধমান কলের চাপে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে রাত ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ‘ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট’ ঘোষণা করা হয়। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে সেই ঘোষণা প্রত্যাহার করা হয়।
লন্ডন অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের চিফ অপারেটিং অফিসার ক্রেইগ হারম্যান বলেন, অতিরিক্ত ৪০০টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ক্রু মোতায়েন এবং ৯৯৯ ও ১১১ কন্ট্রোল রুমে জনবল বাড়ানো হলেও পুরো সপ্তাহজুড়ে চাহিদা ছিল অত্যন্ত বেশি।
তিনি বলেন, “আমরা এখন ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট প্রত্যাহার করেছি, তবে এখনও অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছি। যারা গরমের মধ্যে বাইরে সময় কাটাচ্ছেন বা আজ রাতে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ ম্যাচ উপভোগ করবেন, তারা পর্যাপ্ত পানি পান করুন, দায়িত্বশীলভাবে উদযাপন করুন এবং একে অপরের খেয়াল রাখুন। জীবন-সংকটাপন্ন জরুরি পরিস্থিতি ছাড়া ৯৯৯ নম্বরে কল করবেন না।”
ক্রিটিক্যাল ইনসিডেন্ট চলাকালে রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অনেক রোগীকে ফোনেই চিকিৎসা-পরামর্শ দেওয়া হয় অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য এনএইচএস সেবায় পাঠানো হয়। পাশাপাশি লন্ডনের বিভিন্ন হাসপাতালের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স হ্যান্ডওভার সম্পন্ন করা হয়, যাতে ক্রুরা দ্রুত নতুন জরুরি সেবায় ফিরে যেতে পারেন।
