যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় থাকা অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে তার নীতিমালার ক্ষেত্রে “মস্কো টেস্ট” পাস করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক চিফ অব দ্য ডিফেন্স স্টাফ অ্যাডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন।
বিবিসির Sunday with Laura Kuenssberg অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীকে “প্রায় যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী”র মতো নেতৃত্ব দিতে হবে। তার মতে, ভবিষ্যৎ সরকারের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি এমনভাবে নির্ধারণ করতে হবে, যাতে তা রাশিয়ার মতো প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় নিতে পারে।
অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে বলেছিলেন, নতুন যেকোনো আইন তার নির্বাচনী এলাকা মেকারফিল্ডের সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব বিবেচনা করে “মেকারফিল্ড টেস্ট” পাস করতে হবে। তবে স্যার টনি রাডাকিনের মতে, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় এর পাশাপাশি একটি “মস্কো টেস্ট”ও অপরিহার্য।
এদিকে সরকার আগামী ৭ জুলাই তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের আগে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ডিফেন্স ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান (DIP) প্রকাশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। হোয়াইটহলে পরিকল্পনাটির অর্থায়ন নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।
স্যার টনি রাডাকিন জোর দিয়ে বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির ৩.৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে। তার ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের সামরিক সক্ষমতা “অত্যন্ত সীমিত” অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি এবং সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নসও প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেছেন। একই সঙ্গে আল কার্নস ভবিষ্যতে লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী পদে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে চ্যালেঞ্জ জানানো হতে পারে কি না, সে সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি।
