হাররডস মালিক মোহামেদ আল ফায়েদের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা নারীদের ব্যক্তিগত তথ্য অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রকাশ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছে লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ।
মেট পুলিশ জানিয়েছে, আল ফায়েদ-সংক্রান্ত তদন্তের অগ্রগতি জানাতে পাঠানো মাসিক ই-মেইলে প্রায় ১৪০ জন নারীকে ‘ব্লাইন্ড কপি’ (BCC) না করে সরাসরি কপি (CC) করা হয়। ফলে একই ই-মেইল তালিকায় থাকা অন্য প্রাপকেরা একে অপরের ই-মেইল ঠিকানা দেখতে পান।
১১ আগস্ট পাঠানো ওই ই-মেইলে ‘অপারেশন কর্নপপি’ নামে চলমান তদন্তের অগ্রগতির তথ্য জানানো হয়েছিল। তদন্তটি মূলত আল ফায়েদের যৌন অপরাধে যারা তাকে সহায়তা বা সহযোগিতা করে থাকতে পারেন, তাদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ‘মানবিক ভুলের’ কারণে ঘটেছে। বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং একই দিন ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে সরাসরি বিষয়টি জানানো হয়েছে।
মেট পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, “ভুক্তভোগীদের ওপর এই ঘটনার প্রভাব আমরা বুঝতে পারছি এবং আন্তরিকভাবে দুঃখিত।” একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের তথ্য ফাঁস ঠেকাতে তাদের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।
ঘটনার পর মেট পুলিশ নিজেই বিষয়টি যুক্তরাজ্যের তথ্য সুরক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইনফরমেশন কমিশনার্স অফিসে (ICO) পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তা এবং আরও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পুলিশ।
মেট পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৫৪ জন ভুক্তভোগী আল ফায়েদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪০ জন তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নিয়মিত ই-মেইল আপডেট পাওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছিলেন।
এদিকে একই আপডেটে জানানো হয়েছে, আল ফায়েদের যৌন অপরাধে সহায়তা বা তা সম্ভব করে দেওয়ার অভিযোগে আরও তিন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের বয়স ৭০ ও ৮০-এর কোঠায়। এ নিয়ে তদন্তে সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ করা সন্দেহভাজনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতজনে।
পুলিশ বলেছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ই-মেইল প্রাপকদের ছোট ছোট দলে ভাগ করে বার্তা পাঠানো হয়েছিল। ফলে পুরো ১৪০ জনের ই-মেইল ঠিকানা একসঙ্গে প্রকাশিত হয়নি; বরং সংশ্লিষ্ট ছোট গ্রুপের সদস্যদের ঠিকানা পরস্পরের কাছে দৃশ্যমান হয়।
মেট পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তের নথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে রেকর্ড করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ভুক্তভোগীদের তথ্য জানানোর বিকল্প পদ্ধতিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে, যাতে মানবিক ভুলের কারণে আবার এমন তথ্য সুরক্ষা লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমানো যায়।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আল ফায়েদ-সংক্রান্ত তদন্তে ভুক্তভোগী ও বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের স্বার্থই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার এবং তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তাদের নিয়মিত অবহিত রাখার প্রতিশ্রুতি বহাল থাকবে।
সূত্র বিবিসি
