চলতি বছর ইংল্যান্ডে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (ইউকেএইচএসএ)।
সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, মে ও জুন মাসে সংঘটিত দুটি তীব্র তাপপ্রবাহে আনুমানিক ২ হাজার ৮৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা গত বছরের পুরো সময়ের তাপজনিত মৃত্যুর প্রায় দ্বিগুণ।
ইউকেএইচএসএ জানিয়েছে, গত ২৪ থেকে ২৭ মে পর্যন্ত চলা তাপপ্রবাহের সঙ্গে আনুমানিক ৭৫৩টি মৃত্যু সম্পর্কিত ছিল। এরপর ২১ থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত চলা আরেকটি তাপপ্রবাহে আরও প্রায় ২ হাজার ১২৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য ২০২৭ সালের শুরুতে প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাজ্যে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর বর্তমান রেকর্ডটি হয়েছিল ২০২২ সালে। ওই বছর মোট ২ হাজার ৯৮৫ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়। চলতি গ্রীষ্মে আরও কয়েক দফা তীব্র গরম পড়লে এবার সেই রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউকেএইচএসএ’র প্রতিবেদনের লেখক ডা. রস থম্পসন বলেন, “বর্তমান পরিসংখ্যানগুলো অন্তর্বর্তী হলেও এগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এ গ্রীষ্মে আরও কয়েক দফা গরম আবহাওয়া দেখা দিলে তাপপ্রবাহ-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ হতে পারে।”
তিনি বলেন, “এই পরিসংখ্যান অত্যন্ত গরম আবহাওয়া মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তা স্পষ্ট করে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি এবং আগে থেকে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগা মানুষের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি বেশি।”
মে ও জুনের দুটি তাপপ্রবাহেই যুক্তরাজ্যের মাসিক তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙেছে। গত ২৬ মে লন্ডনের কিউ গার্ডেনে তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। পরে ২৬ জুন নরফোকের লিংউডে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
এদিকে, চলতি সপ্তাহেও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল আরেক দফা তাপপ্রবাহের মুখে পড়ে। বুধবার তাপপ্রবাহের তীব্রতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায় এবং এসেক্সের রিটলে তাপমাত্রা ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়।
ডা. থম্পসন বলেন, জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী, ঘন ঘন এবং আরও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ভবিষ্যতে উচ্চ তাপমাত্রার ঝুঁকি মোকাবিলায় দেশকে এখন থেকেই প্রস্তুত হতে হবে।
