যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি (Permanent Residency) পাওয়ার নিয়মে বড় পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী বসবাসের অধিকার পেতে হলে অভিবাসীদের দেশের সমাজ ও অর্থনীতিতে বাস্তব অবদান রাখার প্রমাণ দিতে হবে।
লেবার পার্টির বার্ষিক সম্মেলনে সোমবার (৭ অক্টোবর) এ ঘোষণা দেন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। তিনি বলেন,
“যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের অধিকার এখন থেকে শুধু সময়ের ওপর নয়, বরং দায়িত্ববোধ ও অবদানের ওপর নির্ভর করবে।”
শাবানা মাহমুদ জানান, সমাজে অবদান রাখা ও আইন মেনে চলা অভিবাসীদের জন্য সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে, তবে যারা নিয়ম ভঙ্গ করবেন, তাদের আবেদনের মেয়াদ বাড়তে পারে বা আবেদন সরাসরি বাতিল হতে পারে।
ব্রিটিশ সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নিট অভিবাসন কমানো, অভিবাসীদের সামাজিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, এবং সরকারি পরিষেবার ওপর চাপ হ্রাস করা।
📋 প্রস্তাবিত নতুন শর্তসমূহ:
প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী—
- স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পেতে কমপক্ষে ১০ বছর আইনগতভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাস করতে হবে (বর্তমানে যা ৫ বছর)।
- আবেদনকারীর কাজে নিযুক্ত থাকা, ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে অবদান রাখা, এবং সরকারি ভাতা না নেওয়া বাধ্যতামূলক।
- ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, অপরাধমুক্ত রেকর্ড, এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
আয়ের নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করলে বা সমাজে বিশেষ অবদান রাখলে ১০ বছরের সময়সীমা কিছু ক্ষেত্রে কমানো হতে পারে।
📣 জনমত ও পরবর্তী ধাপ
পরিকল্পনাটি চলতি বছরের শেষ নাগাদ জনমতের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তখন সাধারণ জনগণ ও নীতিনির্ধারকরা প্রস্তাবটি নিয়ে মতামত দিতে পারবেন।
শাবানা মাহমুদ বলেন,
“আমাদের লক্ষ্য শুধু নির্বাচনে জয়লাভ নয়; বরং দেশকে ঐক্যবদ্ধ রেখে আরও ন্যায়সঙ্গত ও কার্যকর ব্রিটেন গড়ে তোলা।”
তিনি আরও জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীর সংখ্যা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনতে উদ্যোগী হয়েছে।