ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদের দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি উঠলেও যাচাইবাছাই শেষে তার মনোনয়নপত্র বৈধ বলে গ্রহণ করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা।
গতকাল শনিবার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মনোনয়নপত্র যাচাইবাছাই চলাকালে স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন এবং জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ইয়াসীন খান বিএনপি প্রার্থী কয়ছর আহমেদের দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টি উত্থাপন করেন। এ সময় প্রার্থীদের মধ্যে প্রায় আট মিনিট ধরে বাগ্বিতণ্ডা হয়।
ব্যারিস্টার মো. আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, তার কাছে প্রমাণ রয়েছে যে মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ ব্রিটিশ নাগরিক। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী ইয়াসীন খান অভিযোগ করেন, কয়ছর আহমেদ প্রায় দুই যুগ ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং সেখানে বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, অথচ হলফনামায় যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের বিষয়ে কোনো তথ্য উল্লেখ না করে তা গোপন করেছেন।
তবে জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, নির্বাচন আইন অনুযায়ী প্রার্থী হলফনামায় যে তথ্য প্রদান করেন, প্রাথমিকভাবে সেটিই গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। কোনো আপত্তি থাকলে সংশ্লিষ্ট পক্ষ নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারে। তিনি জানান, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ হলফনামায় নিজেকে দ্বৈত নাগরিক নন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ বলেন, তিনি কোনো দেশের দ্বৈত নাগরিক নন এবং সে কারণেই হলফনামার সংশ্লিষ্ট ঘরে ‘না’ অপশনে টিক চিহ্ন দিয়েছেন।
মনোনয়ন যাচাই শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কে কী দাবি তুলেছে, সেটা তাদের বিষয়। আচরণবিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা ছিল, সেটিই নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই নিরপেক্ষ ও সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
উল্লেখ্য, সংবিধান ও জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অন্য দেশের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রমাণসহ হলফনামা দাখিল করলে তিনি সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্য হন। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত হলফনামায় ঘোষিত তথ্যই কার্যকর থাকে।