অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। কাতারে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদে কর্মরতদের একটি অংশকে নিরাপত্তাজনিত কারণে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একই সময়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার ঘোষণা দিয়েছে।এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এমন এক সময়ে, যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলো তাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
আল উদেইদ ঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র এবং এখান থেকে ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানসহ পুরো অঞ্চলে সামরিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। আংশিক সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে তাই নিরাপত্তা ঝুঁকির ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।এদিকে তেহরানে অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও ক্রমশ কঠোর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বিক্ষোভের জেরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিচার দ্রুততর করা হয়েছে এবং একাধিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ। পশ্চিমা দেশগুলো এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা এখনও বাস্তব রূপ না নিলেও সামরিক প্রস্তুতি ও পাল্টা হুমকির কারণে পুরো অঞ্চল এখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ও তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।