অনলাইন ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলের নির্বাচনি ঐক্য থেকে চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। শুক্রবার বিকেলে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
ইসলামী আন্দোলনের অভিযোগের জবাবে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আসন সমঝোতা, রাজনৈতিক আলোচনা কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো পক্ষকেই অসম্মান করা হয়নি বা চাপ প্রয়োগ করা হয়নি। সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, বাস্তবতা ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি জানান, মনোনয়ন দাখিলের পরও কিছু বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় পর্যায়ক্রমে আলোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে গঠিত লিয়াজোঁ কমিটি মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা, দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি, প্রার্থীর পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে আট থেকে দশটি জরিপ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, কিছু আসন এক দফায় ঘোষণা করা হলেও কয়েকটি আসন নিয়ে মতভিন্নতা থাকায় সময় নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা হয়েছে। গত কয়েক দিনে দীর্ঘ বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়গুলো নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, আসন বণ্টন ছিল সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ফল, কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়নি।
জামায়াতের বিরুদ্ধে শরিয়া আইন চালুর অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি বিভ্রান্তিকরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। দলের আমির বিভিন্ন ধর্মীয় ও কূটনৈতিক প্রতিনিধির প্রশ্নের জবাবে স্পষ্টভাবে বলেছেন, বাংলাদেশের সংবিধান ও বিদ্যমান আইনি কাঠামোর মধ্যেই দেশ পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে কোনো দ্ব্যর্থতা নেই বলে জানান তিনি।
ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক জোট ছিল না। বরং সংস্কার দাবিকে সামনে রেখে আটটি আন্দোলনরত দলের একটি নির্বাচনি ঐক্য প্রক্রিয়া ছিল। এখানে কোনো আহ্বায়ক বা স্থায়ী কাঠামো ছিল না এবং সভাপতিত্ব ও বক্তব্য ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে হয়েছে, যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৃষ্টান্ত।
ইসলামী আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে অসম্মানজনক আচরণের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট নেতার অসুস্থতা ও ভুলে যাওয়ার কারণে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে কষ্ট পেয়ে থাকলে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এটিকে অবজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ইসলামী আন্দোলন জোট থেকে সরে দাঁড়ালেও আলোচনার পথ এখনো খোলা আছে বলে মনে করে জামায়াতে ইসলামী। অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময় এখনো বাকি রয়েছে। ইসলামী দলগুলো ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শক্তিগুলোকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে এবং বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।