বিদায়ী ভাষণে ইউনূস: দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান

ঢাকা: রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় অতীতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও জালিয়াতির সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে দুর্নীতিমুক্ত করা এবং নিয়ম-মান বজায় রাখার সংস্কৃতিতে জাতিকে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

তিনি বলেন, “অতীতে সীমাহীন দুর্নীতি, অসততা ও জালিয়াতি রাষ্ট্রকে পেছনে টেনেছে, আমাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করেছে। নতুন বাংলাদেশকে সেই পথ থেকে সরে আসতে হবে।”

গণতান্ত্রিক চর্চা ধরে রাখার আহ্বান

গত ১৮ মাসে দেশে গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহির চর্চা শক্তিশালী হয়েছে বলে উল্লেখ করে ইউনূস বলেন, উৎসবমুখর নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এই ধারাকে ভবিষ্যতেও রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার জন্য জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর “ইস্পাত কঠিন ঐক্য” প্রয়োজন।

তিনি বলেন, দল-মত-ধর্ম-বর্ণ-লিঙ্গ নির্বিশেষে সবাইকে ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতিতে দৃঢ় থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচন নিয়ে সন্তোষ

সাম্প্রতিক নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে স্মরণীয় উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, যেন ঈদের আমেজ। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে বিজয়ী ও পরাজিত উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান তিনি।

তিনি বলেন, বিজয়ীরা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আর যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও প্রায় অর্ধেক ভোটারের সমর্থন পেয়েছেন—এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

দায়িত্বের সমাপ্তি

ইউনূস জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের ১৮ মাসের অধ্যায় শেষ হবে। আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “অত্যন্ত আশাবাদের সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি—বাংলাদেশের জনগণ ও রাজনৈতিক শক্তি মিলেই গণতান্ত্রিক ধারাকে এগিয়ে নেবে।”