যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স বৃহস্পতিবার একটি তিন বছরের গুরুত্বপূর্ণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, যার লক্ষ্য ইংলিশ চ্যানেল হয়ে অবৈধভাবে ছোট নৌকায় আসা অভিবাসীদের সংখ্যা কমানো। এই চুক্তির আওতায় ফ্রান্স অন্তত ৫০ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করবে, যারা “দাঙ্গা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ কৌশল”-এ প্রশিক্ষিত।
চুক্তি অনুযায়ী, ফ্রান্স ড্রোন, দুটি হেলিকপ্টার এবং উন্নত ক্যামেরা সিস্টেম ব্যবহার করে মানবপাচারকারী চক্র ও অবৈধ অভিবাসীদের গতিবিধি নজরদারি করবে। এই প্রকল্পে যুক্তরাজ্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড অর্থায়ন করবে, তবে এক বছর পর যদি যথেষ্ট সংখ্যক যাত্রা বন্ধ না হয়, তাহলে এই অর্থ কমানো বা প্রত্যাহার করা হতে পারে।
এছাড়া, ফ্রান্সের ডানকার্কে একটি নতুন রিমুভাল সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে, যা চলতি বছরের শেষে চালু হওয়ার কথা। ১৪০ জন ধারণক্ষমতার এই কেন্দ্রটিতে ২০০-র বেশি কর্মকর্তা কাজ করবেন এবং মূলত এরিত্রিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, সুদান, সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরাক, সিরিয়া, ভিয়েতনাম ও ইয়েমেন থেকে আসা অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ওপর জোর দেওয়া হবে।
চুক্তি স্বাক্ষরের সময় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একে “ঐতিহাসিক চুক্তি” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করবে। অন্যদিকে, ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই চুক্তি তাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করবে এবং উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তবে বিরোধী দলগুলো এই চুক্তির সমালোচনা করেছে। কনজারভেটিভ পার্টি অভিযোগ করেছে, “কোনো শর্ত ছাড়াই বিপুল অর্থ ফ্রান্সকে দেওয়া হচ্ছে”, আর রিফর্ম ইউকে বলেছে, “এটি একটি ব্যর্থ ব্যবস্থায় আরও অর্থ ঢালার সমান।”
গত তিন বছরে চ্যানেল পারাপার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে ৪১,৪৭২ জন অভিবাসী ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায়। ২০২৬ সালের শুরু থেকেই ইতিমধ্যে ৬,০০০-এর বেশি মানুষ এই পথে এসেছে।
উত্তর ফ্রান্সের একটি শরণার্থী শিবিরে থাকা এক ব্যক্তি জানান, ফ্রান্সে তিনি গৃহহীন, কিন্তু যুক্তরাজ্যে গেলে তিনি “স্বাভাবিক জীবন” যাপন করতে পারবেন। আরেকজন নারী বলেন, “যুক্তরাজ্যে গণতন্ত্র আছে, তারা আমাদের সুরক্ষা দেয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে চ্যানেল পারাপার কমতে পারে, তবে এর সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তব পদক্ষেপের ওপর।
