একের পর এক বিতর্কে নাইজেল ফরাজ, এবার ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ডের বিলাসবহুল বাড়ি নিয়ে তোলপাড়

ব্রিটিশ ডানপন্থী রাজনীতিক এবং Reform UK দলের নেতা Nigel Farage আবারও বড় ধরনের বিতর্কের মুখে পড়েছেন। এবার প্রশ্ন উঠেছে তার ১.৪ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের বিলাসবহুল বাড়ি কেনা নিয়ে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বাড়িটি কেনার সময় এবং তার আগেই পাওয়া ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি গোপন “ব্যক্তিগত উপহার”-এর মধ্যে রহস্যজনক মিল রয়েছে।  

Sky News, The Guardian, Financial Times ও The Times–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের মে মাসে সারেতে অবস্থিত একটি ১.৪২ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি নগদ অর্থে কেনেন ফারাজ। অথচ তার কিছুদিন আগেই তিনি থাইল্যান্ডভিত্তিক ব্রিটিশ ক্রিপ্টো ধনকুবের Christopher Harborne–এর কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি ব্যক্তিগত উপহার পেয়েছিলেন।  

বিতর্কের মূল কারণ হলো—ফারাজ এই অর্থ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে যথাযথভাবে ঘোষণা করেননি। এ নিয়ে ইতোমধ্যেই পার্লামেন্টারি স্ট্যান্ডার্ডস কমিশনার তদন্ত শুরু করেছে।  

ফারাজ দাবি করেছেন, বাড়িটি কেনার জন্য তিনি ITV–এর জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো I’m a Celebrity… Get Me Out of Here!–এ অংশ নিয়ে পাওয়া প্রায় ১.৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যবহার করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই অর্থ তার ব্যক্তিগত মিডিয়া কোম্পানি “Thorn in the Side Ltd”–এর মাধ্যমে এসেছিল।  

কিন্তু এখানেই দেখা দিয়েছে নতুন প্রশ্ন।

The Guardian, Financial Times এবং The Times–এর অনুসন্ধানে দেখা গেছে, “Thorn in the Side Ltd”–এর আর্থিক নথিতে এমন কোনো বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের তথ্য নেই, যা দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বাড়ি কেনা সম্ভব হতো। বরং কোম্পানির নগদ অর্থের পরিমাণ ওই সময়ে বেড়েছে।

Financial Times জানায়, বাড়িটি ফারাজ ব্যক্তিগত নামে কিনেছেন এবং সেখানে কোনো মর্টগেজও নেওয়া হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে—টিভি শোর অর্থ সত্যিই ব্যবহার করা হয়েছিল, নাকি ৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সেই বিতর্কিত উপহার থেকেই বাড়ির অর্থ এসেছে?  

ফারাজের দল Reform UK দাবি করেছে, বাড়ি কেনার প্রক্রিয়া ও “proof of funds” যাচাই–বাছাই উপহার পাওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। দলটির এক মুখপাত্র বলেন, “বাড়ি কেনা এবং উপহারের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই।”  

তবে বিরোধীরা এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয়। লেবার পার্টির নেতারা ফারাজের কাছে পুরো অর্থ কোথায় এবং কীভাবে ব্যবহার হয়েছে তার পূর্ণ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা এমন সময় সামনে এলো, যখন Reform UK সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে এবং জাতীয় রাজনীতিতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই আর্থিক বিতর্ক ফারাজের “জনগণের নেতা” ইমেজে বড় ধাক্কা দিতে পারে।  

যদি তদন্তে প্রমাণ হয় যে তিনি সংসদীয় নিয়ম ভঙ্গ করেছেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্ত কিংবা উপনির্বাচনের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে।  

বিতর্কের কেন্দ্রে কে এই দাতা?

Christopher Harborne বর্তমানে Reform UK–এর অন্যতম বড় অর্থদাতা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইতোমধ্যেই দলটিকে কয়েক কোটি পাউন্ড অনুদান দিয়েছেন।  

ফারাজ প্রথমে বলেছিলেন, এই অর্থ তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে। পরে আবার এটিকে “ব্রেক্সিট আন্দোলনের পুরস্কার” বলেও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্যের এই পরিবর্তনও বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।