নরওয়েকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও উন্নত পারফরম্যান্সের প্রত্যাশা ইংল্যান্ড অধিনায়কের

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। কঠিন এই লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন করেছে থমাস টুখেলের দল। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, গর্ব এবং আরও ভালো করার প্রত্যয়। তার ভাষ্য, সেমিফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ হলেও ইংল্যান্ড এখনো নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি।

মায়ামিতে অনুষ্ঠিত উত্তেজনাপূর্ণ এই ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। তবে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্সরা। ম্যাচ শেষে কেইন বলেন, নকআউট পর্বে শুধু ভালো ফুটবল খেললেই হয় না, কঠিন পরিস্থিতিতে চরিত্র ও মানসিক দৃঢ়তারও পরীক্ষা দিতে হয়।

‘আমরা এখনো এমন পর্যায়ে পৌঁছাইনি, যেখানে বলতে পারি এটাই আমাদের সেরা পারফরম্যান্স। কিন্তু এই দলের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, আমরা কখনো হাল ছাড়ি না। কঠিন পরিস্থিতিতেও আমরা বিশ্বাস রাখি যে ম্যাচে ফিরতে পারব,’ বলেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক।

কেইনের মতে, নকআউট পর্বে প্রতিটি ম্যাচের মূল লক্ষ্য জয়। দৃষ্টিনন্দন ফুটবলের চেয়ে ফলাফলই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জেতা। কখনো কখনো আপনি দারুণ ফুটবল খেলবেন, কখনো খেলতে পারবেন না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যদি জয় পান, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়।’

দলের মানসিক দৃঢ়তার প্রশংসা করে কেইন বলেন, এই স্কোয়াডের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার বিশ্বাস। নরওয়ের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ধৈর্য ধরে সুযোগ কাজে লাগানোই জয় এনে দিয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

‘আমরা জানতাম ম্যাচটা কঠিন হবে। নরওয়ে দারুণ একটি দল। তারা আমাদের অনেক সমস্যায় ফেলেছে। কিন্তু আমরা ধৈর্য হারাইনি। শেষ পর্যন্ত নিজেদের সুযোগ তৈরি করেছি এবং সেটাই পার্থক্য গড়ে দিয়েছে,’ যোগ করেন কেইন।

ম্যাচের নায়ক জুড বেলিংহ্যামের ভূয়সী প্রশংসাও করেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দায়িত্ব নিয়ে দলকে জয়ের পথে ফেরানোর জন্য মিডফিল্ডারের অবদানকে বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি।

কেইন বলেন, ‘জুড এমন একজন খেলোয়াড়, যে বড় মঞ্চে দায়িত্ব নিতে ভয় পায় না। সে আবারও সেটা প্রমাণ করেছে। তবে এটা শুধু একজনের জয় নয়, পুরো দলের জয়।’

তবে কোয়ার্টার ফাইনালের জয়কে শেষ লক্ষ্য হিসেবে দেখছেন না ৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। তার মতে, সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে।

‘সেমিফাইনালে উঠেছি, এটা অবশ্যই আনন্দের। কিন্তু আমাদের লক্ষ্য এখানেই শেষ নয়। আমরা আরও এগোতে চাই। সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে,’ বলেন তিনি।

নিজেদের পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ করে কেইন স্বীকার করেন, দলের খেলায় এখনো উন্নতির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

‘আমরা জানি আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। কিছু মুহূর্তে বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, কিছু সিদ্ধান্ত আরও ভালো হতে পারত। তবে এই দল শেখার মানসিকতা রাখে। আশা করি সেমিফাইনালে আমরা আরও পরিণত হয়ে মাঠে নামব। এ ধরনের টুর্নামেন্টে অনেক সময় আপনাকে নিখুঁত খেলতে হয় না। কিন্তু আপনাকে লড়তে হবে, বিশ্বাস রাখতে হবে এবং সুযোগ এলে তা কাজে লাগাতে হবে। আমরা সেটাই করছি,’ বলেন কেইন।

নরওয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপের শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে ইংল্যান্ড। এখন তাদের সামনে অপেক্ষা করছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সেই মহারণের আগে হ্যারি কেইনের বার্তা স্পষ্ট, ইংল্যান্ড এখনো তাদের সেরাটা দেখায়নি, আর সেটিই প্রতিপক্ষের জন্য হতে পারে সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।