নর্থ সাগরের তেল ও গ্যাস সম্পদ ব্যবহারের বিষয়ে যুক্তরাজ্য একটি ‘বাস্তববাদী’ অবস্থান নেবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম।
উত্তর সাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলন বাড়ানোর পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান নিয়ে আসছেন ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, বার্নহামের সঙ্গে প্রথম ফোনালাপেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উত্তর সাগরকে আরও উন্মুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এ দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বার্নহাম বলেন, “সেখানে একটি সম্পদ রয়েছে। মানুষ যখন সংকটে রয়েছে, তখন বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না। এ কারণেই আমি প্রেসিডেন্টকে এমন ইঙ্গিত দিয়েছি।”
উত্তর সাগরে নতুন করে তেল ও গ্যাস উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার বিষয়ে বার্নহাম বর্তমানে বিভিন্ন মহলের চাপের মুখে রয়েছেন। কয়েকটি শ্রমিক সংগঠন, জ্বালানি খাতের প্রতিনিধিসহ তাঁর নিজ দল লেবার পার্টির কিছু এমপি উত্তর সাগরে আরও বেশি খননের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
তবে ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের ইশতেহারে লেবার পার্টি নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান লাইসেন্স না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একই সঙ্গে দলটি জানিয়েছিল, আগে থেকে অনুমোদিত লাইসেন্সগুলো বহাল রাখা হবে।
স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকারের জ্বালানিমন্ত্রী থাকাকালে এড মিলিব্যান্ড লেবারের ওই নীতির জোরালো সমর্থক ছিলেন। তিনি ব্রিটেনের সবচেয়ে বড় অনুন্নত তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র রোজব্যাঙ্কের জন্য দেওয়া লাইসেন্সকে একসময় ‘জলবায়ুর বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ বলে বর্ণনা করেছিলেন।
বর্তমানে বার্নহামের সরকারে এড মিলিব্যান্ড পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
উত্তর সাগরের তেল ও গ্যাস সম্পদ নিয়ে বার্নহামের সাম্প্রতিক মন্তব্যে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি নীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে নতুন করে খনন লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়ে সরকার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নীতিগত পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়নি।
