বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের আগে ইরান জাতীয় ফুটবল দলের কোচ আমির গালেনোয়ি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তার দল মাঠের বাইরের কোনো বিতর্কে জড়াতে চায় না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে গ্রুপ ‘জি’-র উদ্বোধনী ম্যাচের আগের সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমরা এখানে ভালো ফুটবল খেলতে এসেছি। মাঠের বাইরের কোনো বিতর্কে আমাদের মনোযোগ নেই। আমরা রাজনীতি করতে আসিনি। ফুটবল আর রাজনীতি এক নয়।”
তবে বাস্তবতা বলছে, এবারের বিশ্বকাপ যাত্রায় ইরানের জন্য ফুটবল ও রাজনীতিকে পুরোপুরি আলাদা রাখা সম্ভব হয়নি। যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, কূটনৈতিক উত্তেজনা এবং ভিসা জটিলতার মতো নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টে অংশ নিতে এসেছে এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দলটি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার পর দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি। ভিসা জটিলতার কারণে নির্ধারিত অনুশীলন ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে শেষ মুহূর্তে সরিয়ে নেওয়া হয় মেক্সিকোর তিজুয়ানায়। এছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি বলে জানা গেছে।
তবে ম্যাচের আগে কিছুটা স্বস্তিও ফিরেছে ইরান শিবিরে। বিশ্বকাপে তাদের অভিষেক ম্যাচের মাত্র এক দিন আগে ওয়াশিংটন ও তেহরান চলমান সংঘাত নিরসনে একটি স্থায়ী সমঝোতার ঘোষণা দেয়। এতে যুদ্ধের আশঙ্কা কিছুটা কমলেও রাজনৈতিক উত্তাপ পুরোপুরি প্রশমিত হয়নি।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচ চলাকালে প্রবাসী ইরানিদের একটি অংশ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি সরকারবিরোধী ব্যানার প্রদর্শন নিয়ে নতুন বিতর্কও তৈরি হয়েছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও কোচ গালেনোয়ি বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ।
তিনি বলেন, “প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব সমস্যা আছে। সেগুলোর সঙ্গে ফুটবলের সম্পর্ক নেই। আমরা দেশের ভেতরে ও বাইরে থাকা সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করতে এসেছি।”
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। তবে এই টুর্নামেন্ট তাদের জন্য শুধু ফুটবলের প্রতিযোগিতা নয়, বরং সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার ক্ষত বুকে নিয়েই সবুজ ঘাসের মঞ্চে নামছে ইরান। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড হলেও, মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জগুলোই যেন তাদের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
