সিলেটের নাগরিক জীবনকে অসহনীয় করে তোলা প্রধান দুটি সমস্যা—ফুটপাত ও রাজপথ দখলকারী হকারদের রাজত্ব এবং ব্যাটারিচালিত রিকশার রাজত্ব—মোকাবিলায় এই দুই কর্মকর্তা মাঠে নেমেছেন
১. মো. সারোয়ার আলম (জেলা প্রশাসক)
২. মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম (সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার)
জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের পদক্ষেপ
সাবেক র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কঠোর ভূমিকার জন্য পরিচিত মো. সারোয়ার আলম সিলেটবাসীর মধ্যে বিপুল প্রত্যাশা জাগিয়েছিলেন। তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের সময় সিলেটজুড়ে সাদাপাথর লুটকাণ্ডে তোলপাড় চলছিল।
তিনি দায়িত্ব নিয়েই লুটপাটকৃত পাথর উদ্ধারের চলমান কর্মসূচিকে আরও বেগবান করেন এবং দ্রুত প্রতিস্থাপনের কাজ শুরু করেন। তিনি নগরীর প্রধান নাগরিক সমস্যা ফুটপাত মুক্ত করা ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দিকে নজর দেন।
হকার পুনর্বাসন: তিনি উচ্ছেদ অভিযানের আগে হকারদের পুনর্বাসনের জন্য লালদিঘীরপাড় অস্থায়ী হকার্স মার্কেটকে প্রস্তুতের ব্যবস্থা গ্রহণ করেন (কাজটি করছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন)।
তিনি হকারদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রস্তুতকৃত ওই মাঠে তাদের যেতেই হবে, অন্যথায় তাদের রাজপথ বা ফুটপাত—কোথাও বসতে দেওয়া হবে না।
তিনি এই কাজ শুরু করার আগে রাজনীতিবিদ ও নগরীর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছেন এবং তাদের মতামত গ্রহণ করেছেন।
তাঁর ঘোষণার পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে, যদিও তাদের অনেকেই পুনর্বাসন কেন্দ্রে যেতে মানসিকভাবে প্রস্তুত।
পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছেন।
তিনি বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে একাধিকবার মতবিনিময় করে প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছেন। নগরবাসী যানজট এবং ফুটপাত দখল মুক্ত করাকেই প্রধান সমস্যা হিসেবে জানিয়েছেন।
প্রথমে হেলমেট ব্যবহারের উপর গুরুত্ব দিয়ে কাজ শুরু করেন।
ফুলেল শুভেচ্ছা কর্মসূচি: যেসব মোটরসাইকেল চালক হেলমেট ব্যবহার করছেন, নগরীর প্রায় সব পয়েন্টে তাদের হাতে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর কর্মসূচি পালন করেছেন তিনি।
এই দুই কর্মকর্তার সমন্বিত উদ্যোগে সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের নাগরিক সমস্যাগুলো সমাধানের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।