ব্রিটেনে আসছে ঝড় ‘স্টর্ম অ্যামি’: প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির সতর্কতা

ব্রিটেনজুড়ে মৌসুমের প্রথম নামকরণকৃত ঝড় ‘স্টর্ম অ্যামি’ শুক্রবার ও শনিবার আঘাত হানতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে মেট অফিস।

উত্তর-পশ্চিম দিক দিয়ে আসা অ্যামি ঝড়টি ঘন্টায় সর্বোচ্চ ৮০ মাইল (১২৯ কিমি) বেগে বাতাস বইয়ে নিয়ে আসবে। সঙ্গে থাকবে প্রবল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।

মেট অফিস ইতিমধ্যেই শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে শনিবার রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত বাতাস ও বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে।

ঝড়ের প্রভাবে ক্ষয়ক্ষতি ও যাতায়াতে ব্যাঘাত ঘটতে পারে সপ্তাহান্তজুড়ে।

বৃহস্পতিবার: শুরু হবে বৃষ্টিবাতাস

বৃহস্পতিবার থেকেই উত্তর আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের পশ্চিমাঞ্চলে শুরু হবে বৃষ্টিস্নাত ঝোড়ো আবহাওয়া।

পশ্চিম দিক থেকে বৃষ্টি ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়বে, বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলে তা হবে বেশ ভারী। সেখানে মধ্যরাত পর্যন্ত হলুদ সতর্কতা বলবৎ থাকবে।

বৃষ্টির পরিমাণ ৩০-৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে, আর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও পাহাড়ি এলাকায় তা বেড়ে ৮০ মিলিমিটারেও পৌঁছাতে পারে।

এর ফলে স্থানীয়ভাবে বন্যা এবং ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।

আইরিশ সাগরের উপকূলে ঘন্টায় ৫০ মাইল (৮০ কিমি) গতির দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

শুক্রবার: স্টর্ম অ্যামির প্রকটতা বাড়বে

সপ্তাহের শুরুতে ধেয়ে আসা হারিকেন হুম্বার্টো-র দিকে নজর ছিল আবহাওয়াবিদদের। মাঝ আটলান্টিকে সেটি দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তারপর ইউকের দিকে আসবে।

তবে হুম্বার্টোর আগেই একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হবে—যেটি ট্রপিক্যাল স্টর্মের কিছু প্রভাব বহন করলেও এটি হবে একটি আলাদা আবহাওয়া ব্যবস্থা।

এই কারণেই মেট অফিস এটিকে ‘স্টর্ম অ্যামি’ নামে নামকরণ করেছে, ‘হুম্বার্টো’ নয়।

যুক্তরাজ্য, আয়ারল্যান্ড অথবা নেদারল্যান্ডসের আবহাওয়া সংস্থাগুলোর কেউ একজন যখন ঝড়ের প্রভাব ‘মাঝারি’ থেকে ‘উচ্চ’ পর্যায়ের হবে বলে মনে করে, তখনই এর নামকরণ করা হয়।

শুক্রবার দুপুর নাগাদ, অ্যামি স্কটল্যান্ডের কাছাকাছি চলে আসবে, এবং তখন থেকেই ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস গোটা যুক্তরাজ্যে ছড়িয়ে পড়বে।

ধ্বংসাত্মক বাতাসের সতর্কতা

শুক্রবার বিকেল ৪টা থেকে শনিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত উত্তর আয়ারল্যান্ডে বাতাসের জন্য হলুদ সতর্কতা জারি থাকবে।

এছাড়াও, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে শনিবার রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত স্কটল্যান্ড, উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড এবং উত্তর ওয়েলসেও থাকবে একই সতর্কতা।

এই এলাকায় ৫০-৬০ মাইল (৮০-৯৬ কিমি) বেগে দমকা বাতাসের সম্ভাবনা আছে। কোনো কোনো স্থানে তা একসময় ৭০ মাইল (১১৩ কিমি) পর্যন্তও পৌঁছাতে পারে।

উন্মুক্ত উপকূলীয় এলাকা এবং স্কটল্যান্ডের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে ঝোড়ো বাতাস ৮০ মাইল (১২৯ কিমি) পর্যন্ত উঠতে পারে।

এগুলো হবে বিপজ্জনক বাতাস। যেহেতু এখনো গাছপালায় পূর্ণ পাতা রয়েছে, তাই সেগুলো সহজেই উপড়ে যেতে পারে বা ডালপালা ভেঙে পড়তে পারে।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিশেষ করে স্কটল্যান্ডে সড়ক, রেল এবং ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কিছু ফ্লাইটও বাতিল বা দেরিতে ছাড়তে পারে।

শনিবার সকাল নাগাদ সবচেয়ে প্রবল বাতাস কমে আসলেও সারাদিন জুড়ে আবহাওয়া থাকবে দারুণ ঝোড়ো।

উত্তর ও পশ্চিম স্কটল্যান্ডে ৬০-৭০ মাইল (৯৭-১১৩ কিমি) বেগে বাতাস বইবে।

পুরো যুক্তরাজ্য জুড়েও ৪০-৫৫ মাইল (৬৪-৮৯ কিমি) গতির বাতাস থাকতে পারে, যা শনিবারও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়।

বৃষ্টিপাত এবং বন্যার আশঙ্কা

শুধু বাতাসই নয়, স্টর্ম অ্যামি শুক্রবার নিয়ে আসবে ভারী বৃষ্টিও।

বাতাসের পাশাপাশি, শুক্রবার দুপুর ১২টা থেকে রাত ১১:৫৯টা পর্যন্ত স্কটল্যান্ডের বহু অঞ্চলে বৃষ্টির জন্যও হলুদ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

এতে ২০-৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে, আর দক্ষিণ-পশ্চিম ও সাদার্ন হাইল্যান্ডসের পাহাড়ি এলাকাগুলোতে তা বেড়ে ৫০ মিলিমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

এর আগে গোটা সপ্তাহে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় মাটিতে পানির পরিমাণ ইতিমধ্যেই বাড়ছে, ফলে স্থানীয়ভাবে আবারও বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রধান বৃষ্টিপাতের অঞ্চলটি শনিবার ভোরে ইউকের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে সরে যাবে।

যদিও শনিবারও ঝোড়ো বাতাস থাকবে, তবে তার ফাঁকে ফাঁকে দেখা যাবে সূর্যের মুখ, সঙ্গে থাকবে বিচ্ছিন্ন কিছু বৃষ্টি।

এই বৃষ্টির বেশিরভাগই পড়বে ইউকের উত্তর ও পশ্চিম অংশে।

রবিবারের মধ্যে স্টর্ম অ্যামি উত্তর সাগরের আরও ভেতরের দিকে চলে যাবে, ফলে সপ্তাহান্তের দ্বিতীয় ভাগে আবহাওয়া থাকবে তুলনামূলক শুকনো ও শান্ত।