স্বস্তির বাহন এখন বিষফোড়া

একসময় স্বল্প খরচে যাত্রীসেবার স্বস্তির বাহন হিসেবে পরিচিত ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা এখন হয়ে উঠেছে শহরের ‘বিষফোড়া’। এসব যানবাহনের কারণে তীব্র যানজট, বিদ্যুৎচাহিদা বৃদ্ধি এবং বিশৃঙ্খলা এখন বড় সংকটে ফেলছে নগরজীবনকে।

🔹 রাজশাহী: অনুমোদনের চেয়ে চারগুণ বেশি গাড়ি

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) তথ্য অনুযায়ী, নগরে বর্তমানে ১০ হাজার ইজিবাইক ও ৬ হাজার অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি আছে। কিন্তু বাস্তবে শহরে প্রায় ৬০ হাজার অটো ও ইজিবাইক চলছে, যার অধিকাংশই অনিবন্ধিত।

রাসিকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, করপোরেশনের অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও আরও হাজারো যান অবৈধভাবে চলছে।

নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুর রশিদ বলেন,

“একটি অটোরিকশা চার্জ দিতে গড়ে ১ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ লাগে। ফলে শহরের বিদ্যুৎচাহিদার বড় অংশ এখন এসব যান চার্জে ব্যয় হচ্ছে।”

🔹 চাঁপাইনবাবগঞ্জ: তালিকাবিহীন হাজারো অটো

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পাঁচ উপজেলার কোনো প্রশাসনের কাছেই নিবন্ধিত অটোরিকশার সঠিক তালিকা নেই। পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত অটোরিকশা মাত্র ৯১টি। অথচ সদর উপজেলাতেই চলছে ৫ থেকে ৬ হাজার অটোরিকশা।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার ফজলুর রহমান বলেন,

“ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বৃদ্ধির কারণে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।”

🔹 নাটোর ও নওগাঁ: নতুন নিবন্ধন শুরু, তবুও বিশৃঙ্খলা

নাটোর পৌরসভা তিন মাসে ৩৫৬টি রিকশা নিবন্ধন করেছে, লক্ষ্য তিন হাজার।

নওগাঁ পৌরসভায় নিবন্ধিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ১,৫০০ এবং ইজিবাইক ৬৮৫টি হলেও শহরে চলছে ৬ হাজারের বেশি।

নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার ফখরুল আলম জানান, দৈনিক ১২০–১৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের বড় অংশ এখন অটোরিকশা চার্জে ব্যবহৃত হচ্ছে।

🔹 জয়পুরহাট: রাস্তায় অবৈধ বাহনের দাপট

জেলা শহরে টাউন সার্ভিস অটোরিকশা ৮০০টি, বাইরের রুটে ৫০০টি, যার অধিকাংশই অনিবন্ধিত।

জেলা রিকশা ও ভ্যানচালক ইউনিয়নের তথ্যমতে, পাঁচ উপজেলায় প্রায় ৬,৫০০ ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ভ্যান চলছে।

ট্রাফিক ইন্সপেক্টর জামিরুল ইসলাম বলেন,

“শহরের প্রধান সড়কে ঘন ঘন ইউটার্ন ও অনিয়ন্ত্রিত অটোচালনা যানজট বাড়াচ্ছে। জনবল সংকটে পুরো শহরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না।”

🔹 পাবনা: বৈধের চেয়ে দ্বিগুণ অবৈধ

পাবনা পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরে বৈধ অটোরিকশা ৩,৫০০টি, কিন্তু অবৈধ প্রায় ৮ হাজার। পুরো জেলায় বৈধ–অবৈধ মিলিয়ে ৫০ হাজারের বেশি ব্যাটারিচালিত অটো চলছে।

পাবনা জেলা রিকশা ও অটোবাইক মালিক সমিতির আহ্বায়ক পাভেল হাসান জাহাঙ্গীর বলেন,

“সব উপজেলাতেই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে অটো চলছে। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনাও বেড়েছে।”

পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আহমাদ আল জাবির জানান,

“শুধু অটোরিকশা চার্জ দিতে প্রতিদিন আধা মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে।”