সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবস্থার কথা — তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়। নিচে যা পাওয়া যাচ্ছে, তা হলো বর্তমান পরিস্থিতির সারাংশ, সমস্যা কী কী এবং ইতিমধ্যে যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে সেগুলো।

বর্তমান সমস্যা

  • হাসপাতালে বেডক্যাপাসিটি উল্লেখ করা হয়েছে প্রায় ৫০০ বেডের জন্য, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ৩ ০০০ রোগী সে হাসপাতালটিতে দেখা যাচ্ছে।  
  • চিকিৎসক ও নার্সরা “অনুভায় কাজ করছেন” বলছেন কর্তৃপক্ষ, কিন্তু রোগীভবনাগুলোতে অতিভিড় ও অন্যান্য সমস্যার কারণে সেবার মানে ক্ষতি হচ্ছে।  
  • হাসপাতালের কাঠামোগত ও অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে: যেমন ডাক্তারদের জন্য পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা নেই।  
  • দালাল (ব্রোকার) কার্যক্রমও মাথায় এসেছে — রোগীর সঙ্গে মধ্যস্থতা করে সুবিধা নেয়া এমন অভিযোগ আছে।  

ইতিমধ্যে নেওয়া উদ্যোগ

  • জেলা কমিশনার Md Sarwar Alam সিলেটে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন এবং সেবার মান উন্নয়নের কথা বলেছেন।  
  • দ্রুত সময়ের মধ্যে একটি ক্যান্সার ইউনিট চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে যা রিফারেন্স হিসেবে দেওয়া হয়েছে হাসপাতালের ভীড় ও সেবার চাপ কমানোর জন্য।  
  • দালাল মুক্ত করার, সেবাদান শৃঙ্খলা বাড়ানোর, এবং অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসন।  

কি করা যেতে পারে (প্রস্তাব)

  • অতিরিক্ত বেড ও বিভাগ খোলা — যেমন নতুন ইউনিট, আরো ICU/CCU বৃদ্ধির সুযোগ খোঁজা।
  • রোগীদের সংখ্যা ও সেবার চাহিদা অনুসারে মানবসম্পদ (চিকিৎসক, নার্স, সহকারী) বৃদ্ধি।
  • রোগীর পাশে থাকা অপেক্ষার সময়ে বসার, বিশ্রামের ব্যবস্থা উন্নত করতে হবে।
  • মধ্যস্বত্বভোগী (ব্রোকার) কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও মনিটরিং প্রক্রিয়া চালু করা।
  • রোগীদের অভিজ্ঞতা (patient feedback) সংগ্রহ করতে এবং সেবার মান নিয়মিত পরিক্ষণ করা।
  • স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিকতা ও সুশীল সমাজকে যুক্ত করে সেবাদানে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।

🔴 বাস্তব সমস্যা (যা মিডিয়ায় এসেছে)

  1. রোগীর চাপ ভয়াবহ:
    হাসপাতালটি সরকারি হিসেবে ৫০০ বেডের অনুমোদিত, কিন্তু প্রতিদিন প্রায় ২৫০০–৩০০০ রোগী ভর্তি থাকে। অনেক রোগী মেঝেতে, করিডরে, এমনকি সিঁড়ির ধাপেও শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
  2. চিকিৎসকের অভাব ও দুর্ব্যবহার:
    ডাক্তাররা প্রচণ্ড চাপের মধ্যে কাজ করছেন, কিন্তু অনেক রোগী অভিযোগ করেন—ঠিকভাবে কথা বলা, দেখা বা শুনতেও সময় পান না।
  3. দালালচক্র সক্রিয়:
    হাসপাতালের ভেতরে কিছু অসাধু দালাল রোগীকে বিভ্রান্ত করে বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যায়, কমিশন নেয়। এতে গরিব রোগীরা আরও নিঃস্ব হচ্ছে।
  4. পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ভয়াবহ অবস্থা:
    টয়লেট ব্যবহারের অনুপযোগী, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা দুর্বল, দুর্গন্ধে রোগী ও স্বজনদের অবস্থান করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।
  5. ওষুধ ও সরঞ্জাম সংকট:
    সরকার থেকে সরবরাহ সীমিত, ফলে অনেক সময় রোগীদের বাইরে থেকে দামি ওষুধ কিনতে বাধ্য হতে হয়।

🟢 আলোচনায় আসা আশার খবর

  • সুনামধন্য ডিসি সারোয়ার আলম সম্প্রতি সরেজমিনে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন, রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেছেন, এবং অনিয়ম রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
  • জেলা প্রশাসন হাসপাতালটিকে “দালালমুক্ত ও সেবা-নির্ভর” করার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করছে বলে জানা গেছে।
  • নতুন করে ক্যান্সার ইউনিট ও নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (NICU) চালু করার কাজ চলছে।

✳️ মানুষের দাবি

  • “হাসপাতাল নয়, মানবতার স্থান হোক”—এটাই এখন সিলেটবাসীর আকুতি।
  • নিয়মিত মনিটরিং, অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও মানবিক করা—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে জরুরি।