গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে ও বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ।
রিপোর্ট: কে এম আবু তাহের চৌধুরী : বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) সিলেট জেলা শাখার সাবেক সভাপতি, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান ও গলা (ইএনটি) বিভাগের সাবেক প্রধান প্রফেসর ডা. এ কে এম হাফিজ আর নেই।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টায় তিনি ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।
মরহুম ডা. হাফিজ স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ছেলে, বড় ভাই, বড় বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. হাসনাত এম হোসেন এমবিই এবং সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মিসেস শামসুন নাহার-এর ছোট ভাই। তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন মহলের শোক প্রকাশ
সিলেটের এই খ্যাতনামা চিকিৎসকের মৃত্যুতে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে (GSC UK) এবং প্রবাসী সমাজসহ নানা মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকের কেন্দ্রীয় কনভেনর মোহাম্মদ মকিস মনসুর, কো-কনভেনর মসুদ আহমদ, সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান, ট্রেজারার এম আশরাফ মিয়া, সাউথ ইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো-কনভেনর জামাল হোসেন, সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম, ট্রেজারার হেলেন ইসলাম, এবং অন্যান্য রিজিওনাল নেতৃবৃন্দ এক যুক্ত শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন।
এছাড়া, জিএসসির সাবেক চেয়ারপারসন ও বিশিষ্ট সাংবাদিক কে এম আবু তাহের চৌধুরী, সাবেক চেয়ারপার্সন নুরুল ইসলাম মাহবুব, এবং সাবেক সেক্রেটারি মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আব্দুল কাইয়ুম কয়সর মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
জীবন ও কর্ম
প্রফেসর ডা. এ কে এম হাফিজ সিলেট শহরের হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন, তাঁর স্থায়ী নিবাস সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। তিনি সিলেট মেডিকেল কলেজের এমবিবিএস ৭ম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইএনটি বিভাগের প্রধান, সিলকো ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের চেয়ারম্যান, নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, এবং সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ১৯৯৭–৯৯ এবং ১৯৯৯–২০০১ মেয়াদে দুই দফায় বিএমএ সিলেট জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। এর আগে ১৯৭৭–৭৮ সালে একই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের উপদেষ্টা, এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে একজন নিষ্ঠাবান, সৎ ও মানবিক চিকিৎসক হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন।
প্রফেসর হাফিজ দীর্ঘদিন সিলেট সিটি ক্লিনিকের চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন এবং চিকিৎসা, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। তিনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কর্তৃক সিলেট মহানগরীর দীর্ঘমেয়াদি করদাতা হিসেবে বিশেষ সম্মাননা পদক লাভ করেন।
দোয়া ও জানাজা
প্রফেসর ডা. হাফিজের ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়লে দেশ-বিদেশে প্রবাসী সিলেটবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ শাহজালাল মসজিদে জুমার নামাজের পর তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে দোয়া পরিচালনা করেন মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কাজি ফয়জুর রহমান।
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকার গুলশানে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিবারের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বাদ আসর সিলেটের দরগাহে হযরত শাহজালাল (র.) মাজার মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
শেষ শ্রদ্ধা
প্রফেসর ডা. এ কে এম হাফিজ শুধু চিকিৎসক ছিলেন না — তিনি ছিলেন এক মানবিক ও সমাজসেবী মানুষ, যার জীবনজুড়ে ছিল দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও মানুষের কল্যাণে নিরলস প্রচেষ্টা।
সিলেটের চিকিৎসা সমাজে তিনি ছিলেন এক প্রেরণার নাম, এক আলোকিত মানুষ।