ইংল্যান্ডের সাউথপোর্টে ২০২৪ সালের ২৯ জুলাই টেইলর সুইফট-থিমযুক্ত একটি নৃত্য কর্মশালায় তিন শিশুকে হত্যা করা কিশোর অ্যাক্সেল রুদাকুবানার বিরুদ্ধে তদন্তে উঠে এসেছে তার আগের সহিংস আচরণ ও পরিবারে ভয়ের পরিবেশের কথা।
লিভারপুল টাউন হলে চলমান সাউথপোর্ট ইনকোয়ারিতে জানা যায়, হত্যাকারীর বড় ভাই ডিওন রুদাকুবানা বহু আগেই আশঙ্কা করেছিলেন যে তার ভাই পরিবারের কারও ক্ষতি করতে পারে। ডিসকর্ড ম্যাসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে এক বন্ধুকে তিনি জানিয়েছিলেন, “ঝগড়াগুলো ভয়ের কারণ, কারণ এগুলো প্রাণহানির ঝুঁকি তৈরি করে।”
পারিবারিক টানাপড়ন ও সহিংসতা
ডিওন জানান, ১২ বছর বয়সে নিউরোমাসকুলার ডিসঅর্ডার ধরা পড়ার পর হুইলচেয়ারে নির্ভরশীল হয়ে পড়েন তিনি। এ কারণে বাবা-মায়ের মনোযোগ বেশি যায় তাঁর দিকে, আর এতে ছোট ভাই অ্যাক্সেল ক্ষুব্ধ ও সহিংস হয়ে ওঠে।
কার্ডিফ থেকে সাউথপোর্টে স্থানান্তরের পর অ্যাক্সেলের মেজাজ আরও খারাপ হয় এবং স্কুল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ২০১৯ সালে তার সহিংসতা বাড়ে। ডিওনের ভাষায়: “আমাকে সতর্ক থাকতে হতো, কারণ যেকোনো বিরোধী মতামতই ঝগড়ায় রূপ নিত।”
পরিবারের ভেতরে নিয়ন্ত্রণহীনতা
ডিওন বর্ণনা করেন, বাবা-মা অ্যাক্সেলকে শাস্তি দিতে ভয় পেতেন কারণ এতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তিনি বলেন, “তাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব ছিল না, তাতে ঝুঁকি ছিল।”
শেষ সাক্ষাত
২০২৩ সালের গ্রীষ্মেই শেষ দেখা হয় দুই ভাইয়ের। বিদায় বলার সময় অ্যাক্সেল রাগে একটি বোতল ছুঁড়ে মারে ডিওনের দিকে, যা দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁকে লাগে না।
তদন্ত এখনো চলছে, যা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: বিবিসি