আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইংল্যান্ডে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)–এর হাজার হাজার কর্মী এখন চাকরি হারাতে যাচ্ছেন। ট্রেজারির সঙ্গে একটি বিশেষ চুক্তি স্বাক্ষরের পর এই ব্যাপক ছাঁটাই প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে।বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, নতুন চুক্তির আওতায় এনএইচএসকে চলতি অর্থবছরে অতিরিক্ত ব্যয় করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে ছাঁটাইকৃত কর্মীদের ক্ষতিপূরণ বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থ পরিশোধ করা যায়। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের ১৮,০০০ কর্মীর পদ বিলুপ্ত হবে।
ব্যয় কমাতে কাঠামোগত পরিবর্তন
বছরের শুরুর দিকেই যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছিল, এনএইচএস ইংল্যান্ড—যা সরাসরি জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা পরিচালনা করে—তাকে স্বাস্থ্য ও সমাজসেবা বিভাগে (Department of Health and Social Care) একীভূত করা হবে। এর ফলে কেন্দ্রীয় কাঠামোর পাশাপাশি স্থানীয় স্বাস্থ্য বোর্ডগুলোরও প্রশাসনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো খরচ সাশ্রয় ও প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, তবে এতে কর্মসংস্থান হ্রাস এবং সেবা প্রদানের মান নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।এই ছাঁটাই কার্যক্রমে এককালীন প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এনএইচএসের শীর্ষ কর্মকর্তারা ও স্বাস্থ্য মন্ত্রীরা প্রথমে ট্রেজারির কাছে এই অর্থের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছিলেন, কিন্তু ট্রেজারি তা প্রত্যাখ্যান করে।
শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ আলোচনা শেষে একটি সমঝোতা চুক্তি হয়। এর মাধ্যমে এনএইচএসকে চলতি বছর নির্ধারিত বাজেটের চেয়ে বেশি খরচ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়।
সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই পরিবর্তন “দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা ও সেবা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের জন্য প্রয়োজনীয়”। তাদের দাবি, মাঠ পর্যায়ের চিকিৎসা সেবা এবং রোগীর যত্ন যেন ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।তবে সমালোচকেরা বলছেন, “এনএইচএসের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে ফেলা হচ্ছে এমন সময়ে, যখন কর্মী সংকট ও হাসপাতাল সেবার চাপ ইতিমধ্যেই চরমে।” তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই ছাঁটাই ভবিষ্যতে সেবার মানকে আরও নাজুক করে তুলতে পারে।
ইংল্যান্ডের এনএইচএস বর্তমানে বাজেট ঘাটতি, কর্মী সংকট ও বর্ধিত রোগীর চাপে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছে। সম্প্রতি চিকিৎসক ও নার্সদের আন্দোলন, বেতন বৃদ্ধি দাবি এবং সেবার মান উন্নয়নের আহ্বানে স্বাস্থ্য খাত আরও অস্থির হয়ে উঠেছে।বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যাপক ছাঁটাই স্বল্পমেয়াদে ব্যয় হ্রাস করলেও, দীর্ঘমেয়াদে সেবা প্রদানে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।