বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এদিন তাকে বিদায় জানাতে বা কোনো ধরনের হট্টগোল করতে লন্ডনের বিমানবন্দরে কাউকে না আসার জন্য দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে বিজয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “দয়া করে আমাকে বিদায় দিতে কেউ বিমানবন্দরে যাবেন না। গেলে সবাই জেনে যাবে যে এরা সব বাংলাদেশি। এতে দেশের সুনাম নষ্ট হবে।”
আগামী জাতীয় নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, প্রায় দুমাস পর দেশে বহুল প্রত্যাশিত জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি এবং তাদের সামনে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে পথ অত্যন্ত কঠিন এবং এই কঠিন পথ পাড়ি দিতে হলে সুপরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে।
তিনি বলেন, “আমি কোনো স্বপ্নের মধ্যে নেই, আমি আছি পরিকল্পনার মধ্যে।” শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদাহরণ টেনে তিনি দাবি করেন, সংকটময় সময়ে তারা দেশকে খাদ্যসংকটের কিনারা থেকে উদ্ধার করেছিলেন। বিএনপি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারবে দলটি।
সভায় তারেক রহমান বিএনপির ৩১ দফা সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের অসচ্ছল পরিবারের জন্য মাইক্রোচিপ সংযুক্ত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে, যা পরিবারের গৃহকর্ত্রীদের হাতে দেওয়া হবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর কথাও জানান তিনি।
শিক্ষা খাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ, শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রম, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদারের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সরকার গঠন করলে শিশুদের জনপ্রিয় ‘কুঁড়ি’ টেলিভিশন অনুষ্ঠান নতুনভাবে সাজিয়ে সেখানে খেলাধুলা যুক্ত করা হবে বলেও জানান।
এ ছাড়া প্রবাসীদের জন্য ভাষা শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি, স্বাস্থ্যসেবায় রোগ প্রতিরোধে জোর দেওয়া, স্বাস্থ্য খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ চালু, কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় বাড়াতে সরকারি সহযোগিতা, ছোট ওয়ার্কস্পেস, ফ্রি ওয়াই-ফাই এবং ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যেই জনগণ পাবে।
স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে প্রবাসীদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, ঐক্য বজায় রাখতে পারলেই একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।
যুক্তরাজ্য বিএনপির আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব খসরুজ্জামান খসরুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানসহ বিএনপির অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন।