ডেইলি স্টার প্রথম আলো ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয় এবং ফার্মগেটে অবস্থিত ডেইলি স্টার ভবনে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অগ্নিসংযোগের পর দুটি কার্যালয়ের সামনে জড়ো হওয়া শত শত ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থান থেকে জুলাই মঞ্চের কর্মী-সমর্থকরা শাহবাগে জড়ো হতে থাকেন এবং হাদির হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

হাদির মৃত্যুর খবরের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসেও বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন হল থেকে মিছিল নিয়ে আসা শিক্ষার্থীরা ‘আধিপত্যবাদবিরোধী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে টিএসসি রাজু ভাস্কর্যের সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে তারা মিছিল করে শাহবাগে অবস্থান নেন।

শাহবাগে বিক্ষোভে যোগ দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, উপদেষ্টা পরিষদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মাহফুজ আলম, আসিফ মাহমুদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা।

এসময় নাহিদ ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করুন, যেন কেউ হাদির মৃত্যুকে ভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে না পারে। ভারতকে দ্রুত পালিয়ে যাওয়া হাদির খুনিদের ফেরত দিতে হবে। খুনিদের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “একটি ঐক্যবদ্ধ, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন চলবে,” এবং সব রাজনৈতিক নেতাদের সামনে আসার আহ্বান জানান।

মাহফুজ আলম বলেন, “ফ্যাসিবাদের উচ্ছিষ্ট যারা আছে তাদের বিরুদ্ধে আমরা মাঠে নেমেছি। আমাদের সবার মাথার দর নির্ধারণ করা হয়েছে, এখন আর ঘরে বসে থাকা সম্ভব নয়। দাবি একটাই—এই খুনিদের ফেরত চাই। একজন ওসমান হাদিকে হত্যা করে নির্বাচন বানচালের যে পরিকল্পনা, তা বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না।”