বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং ঢাকার প্রধান বিমানবন্দর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি অপারেশনাল ও নিরাপত্তা প্রস্তুতি। উচ্চপর্যায়ের যাত্রী পরিবহনকে ঘিরে ফ্লাইট পরিচালনা ও বিমানবন্দরের সার্বিক কার্যক্রমে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এয়ারলাইন সূত্র জানায়, তারেক রহমান লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-২০২-এ সিলেট হয়ে ঢাকায় আসছেন। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট) লন্ডন ত্যাগ করবে। বোয়িং উড়োজাহাজে পরিচালিত এ ফ্লাইট বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সেখানে এক ঘণ্টার গ্রাউন্ড টার্নঅ্যারাউন্ড শেষে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বিমান কর্মকর্তারা জানান, গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীর উপস্থিতির কারণে ফ্লাইট অপারেশন কন্ট্রোল, কেবিন সার্ভিস, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে পুরো অপারেশন পরিচালিত হচ্ছে। শেষ মুহূর্তে কেবিন ক্রু ডিপ্লয়মেন্টসহ সব প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, বিশেষ নিরাপত্তা ও অপারেশনাল বিবেচনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ২৫ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যাত্রী ব্যতীত দর্শনার্থী ও স্বজনদের টার্মিনালে প্রবেশে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক জানান, যাত্রীসেবা, টার্মিনাল শৃঙ্খলা এবং এয়ারসাইড কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সম্ভাব্য সড়ক যানজটের কথা বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ২৫ ডিসেম্বর ভ্রমণকারী দেশি-বিদেশি যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বিমানবন্দর এলাকা, এয়ারপোর্ট রোড, গুলশান সংযোগ সড়ক এবং পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়েতে জনসমাগম বাড়তে পারে, যা সড়ক চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে।
এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ব্যস্ত সকালের অ্যারাইভাল ব্যাংকের সঙ্গে এই ফ্লাইটের আগমন একসঙ্গে হওয়ায় এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস, অ্যাপ্রন ব্যবস্থাপনা, টার্মিনাল অপারেশন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তাৎক্ষণিক সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অ্যাপ্রন নিরাপত্তা, যাত্রী প্রক্রিয়াকরণ এবং নিয়মিত ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক রাখাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, ঢাকায় অবতরণের পর তারেক রহমান সড়কপথে পূর্বাচলে একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন এবং পরে গুলশানের দিকে যাবেন। যদিও পরবর্তী যাতায়াত বিমানবন্দরের অপারেশনাল আওতার বাইরে, তবুও অন্য এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট পরিচালনায় যাতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।