২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন: যুক্ত হলো জুলাই বিপ্লব

নতুন শিক্ষাবর্ষ ২০২৬ সালের পাঠ্যবইয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন ও পরিমার্জন এনেছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। সংশোধিত পাঠ্যবইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, ঘটনাপ্রবাহ ও ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের ইতিহাস। একই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গণহত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদের অবসানের ধারাবাহিক তথ্য। পাশাপাশি পাঠ্যবইয়ের গুণগতমান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, গত বছরের পাঠ্যবই নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনসিটিবি। সেই অভিজ্ঞতা ও উচ্চপর্যায়ের কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এবার বিভিন্ন শ্রেণির বইয়ের কনটেন্টে বড় ধরনের সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে।

এনসিটিবির পাঠ্যবই সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞ নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সুপারিশ অনুযায়ী মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়, পৌরনীতি, বাংলা ও ইংরেজি পাঠ্যবইয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে বইগুলো প্রকাশিত হলেও এখনো অনলাইনে আপলোড হয়নি; আগামী ২৮ ডিসেম্বর অনলাইনে প্রকাশ হতে পারে।

সূত্র জানায়, ষষ্ঠ থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান, শেখ হাসিনার পতন এবং ফ্যাসিবাদের অবসানের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত অষ্টম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে তৃতীয় অধ্যায়ের শিরোনাম পরিবর্তন করে রাখা হয়েছে ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম’। আগে এ অধ্যায়ের নাম ছিল শুধু ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ’। নতুন অধ্যায়ে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের পরবর্তী সময় থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক আন্দোলন, বিভিন্ন গণঅভ্যুত্থান এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাস যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া অষ্টম শ্রেণির বাংলা সাহিত্য কণিকা বই থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ বাদ দেওয়া হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ২০০৮ সালের পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ, কর্তৃত্ববাদ, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক, বিরোধী দমন-পীড়ন এবং গণআন্দোলনের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে বাকশাল, এরশাদের স্বৈরশাসন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তনের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বছরের শুরুতেই সব শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, প্রাথমিক স্তরের শতভাগ বই ইতোমধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছালেও ইবতেদায়ি ও মাধ্যমিকের কিছু বই এখনো মুদ্রণাধীন।

এনসিটিবির বিতরণ নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ মতিউর রহমান খান পাঠান বলেন, “এবার পাঠ্যবইয়ের মান আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পারব বলে আশা করছি।”

এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) অধ্যাপক রিয়াদ চৌধুরী বলেন, “অনেক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পরিবর্তিত ও পরিমার্জিত পাঠ্যবই সময়মতো সরবরাহ করতে আমরা আশাবাদী।”