জামিল আহমেদ: সিলেট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আজ ‘প্রবাসী সম্মাননা ২০২৫’ প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষে সিলেটে প্রবাসী বাংলাদেশি কয়েকজন বিশিষ্ট সমাজসেবীকে সম্মাননা সার্টিফিকেট ও ক্রেস্ট প্রদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মানিত করা হয়। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্মাননা প্রদানের এমন উদ্যোগ গ্রহণ করা হলো।
সিলেটের মাননীয় জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলম এই সম্মাননা কার্যক্রমের সূচনা করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও মানবিক কর্মকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান অনস্বীকার্য। ‘প্রবাসী সম্মাননা ২০২৫’ সেই অবদানের একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রবাসী সমাজকর্মী সাংবাদিক কলামিস্ট কেএম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তিনি একাধিক ফোনকল পান—অনেকে জানতে চান তিনি সিলেট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সম্মাননা পাচ্ছেন কি না। তিনি জানান, তিনি সিলেট জেলার অধিবাসী নন; মৌলভীবাজার জেলার বাসিন্দা হওয়ায় সিলেট জেলা প্রশাসনের আওতায় আবেদন করার যোগ্যতা তাঁর নেই।
তিনি আরও বলেন, সিলেট জেলা প্রশাসকের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ যদি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার মাননীয় জেলা প্রশাসকরাও গ্রহণ করতেন, তাহলে প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরও উৎসাহিত ও আনন্দিত হতেন। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
কেএম আবু তাহের চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিনা স্বার্থে সমাজসেবায় যুক্ত থাকার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জীবনে বহু সম্মাননা পেয়েছেন, যার বিবরণ দিলে একটি বড় নিবন্ধ হয়ে যাবে। তবে তাঁর মতে, প্রকৃত স্বীকৃতি মহান আল্লাহর দরবারে পাওয়া গেলে সেটিই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
তবে দুনিয়াবি স্বীকৃতিও মানুষকে ভালো কাজে অনুপ্রেরণা জোগায় উল্লেখ করে তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনসহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজসেবী এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের অবদান যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও সম্মাননা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য।