সুনামগঞ্জের ৫ আসনের ৪টিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী, দলে বাড়ছে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব

সুনামগঞ্জ জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে মাঠে নেমেছেন। ইতোমধ্যে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।

বিদ্রোহী প্রার্থীরা হলেন— সুনামগঞ্জ-১ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন, সুনামগঞ্জ-৪ আসনে জেলা বিএনপির সাবেক জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন এবং সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান চৌধুরী।

এই চার আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন যথাক্রমে আনিসুল হক, কয়ছর আহমদ, অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল এবং কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় দলীয় কোন্দল চলে আসছে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর একাংশ ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় নামলেও অন্য অংশ বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

দলীয় বিভক্তির কারণে জামায়াত বা আটদলীয় জোটের প্রার্থীরা প্রচারণায় সুবিধা পেতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট শেরেনুর আলী বলেন, ভোটাররা ধানের শীষেই আস্থা রাখবেন, তবে বিদ্রোহীদের কারণে প্রতিপক্ষ কিছুটা সুবিধা পেতে পারে।

এদিকে সুনামগঞ্জ-৪ আসনের বিদ্রোহী প্রার্থী দেওয়ান জয়নুল জাকেরীন জানিয়েছেন, কর্মী-সমর্থকদের ব্যাপক আগ্রহের কারণে তার পক্ষে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। একইভাবে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রার্থী দাবি করে ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন।

সুনামগঞ্জ-১ ও ৫ আসনেও মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীদের সমর্থকদের বিক্ষোভ ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থিতা আরও দৃশ্যমান হয়েছে। তবে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে মনোনয়ন বঞ্চিত সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী রুমি দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

এ অবস্থায় সুনামগঞ্জে আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ভোটের সমীকরণে কী প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক অঙ্গনের।