সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় আসন—সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা-মধ্যনগর-তাহিরপুর-জামালগঞ্জ) ও সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্তকরণকে ঘিরে চরম অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। একই আসনে একাধিক প্রার্থীকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়ায় তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও দোলাচল চলছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে প্রথম দফায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আনিসুল হককে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক মনোনয়নপত্র দেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে একই আসনে জেলা বিএনপির সদস্য ও তাহিরপুর উপজেলা পরিষদের আরেক সাবেক চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুলকেও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাক্ষরিত মনোনয়নপত্র প্রদান করা হয়। এক আসনে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ।
একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনেও। এখানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য নাছির চৌধুরীকে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী ও জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়। এতে ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ-১ আসনে আনিসুল হক ও কামরুজ্জামান কামরুল—উভয়েরই রয়েছে শক্তিশালী নিজস্ব বলয়। আনিসুল হক জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মাঠ পর্যায়ে সক্রিয়। অন্যদিকে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা কামরুজ্জামান কামরুল আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে মামলা-হামলা উপেক্ষা করে রাজপথে সক্রিয় থাকায় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রভাবশালী অবস্থান গড়ে তুলেছেন।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে নাছির চৌধুরী জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও তার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আলোচনা চলছে। তবুও সাধারণ ভোটারদের ধারণা, তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে ভোটের পাল্লা তার দিকেই ভারী থাকবে। অপরদিকে দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় থাকা তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেলকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
প্রতিক্রিয়ায় আনিসুল হক বলেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত ধানের শীষ প্রতীক তার হাতেই থাকবে। কামরুজ্জামান কামরুল দাবি করেন, দল তাকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছে এবং তিনিই শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হবেন।
নাছির চৌধুরী বলেন, তার মনোনয়ন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে এবং তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে প্রতিপক্ষরা পরাজিত হবে। অন্যদিকে তাহির রায়হান চৌধুরী পাভেল জানান, দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি তিনি শ্রদ্ধাশীল এবং এবার তিনিই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদী।
সব মিলিয়ে সুনামগঞ্জের এই দুই আসনে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী কে হচ্ছেন—তা জানতে এখন সবাই তাকিয়ে রয়েছে কেন্দ্রীয় ঘোষণার দিকে।