পুরো ইংল্যান্ডে অ্যাম্বার কোল্ড হেলথ অ্যালার্ট জারি, চরম চাপে এনএইচএস

পুরো ইংল্যান্ডে তীব্র শীতের পূর্বাভাসের মধ্যে চরম চাপে পড়েছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যখাত। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) ইংল্যান্ডের সব অঞ্চলের জন্য অ্যাম্বার কোল্ড হেলথ অ্যালার্ট জারি করেছে, যা বুধবার রাত ৮টা থেকে আগামী মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী ২০২৬) সকাল ১০টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। নতুন বছরের শুরুতেই বাড়তি রোগীর ঢেউ আসতে পারে—এই আশঙ্কায় “অস্বাভাবিক চাপে” রয়েছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)।

বুধবার প্রকাশিত তথ্য বলছে, হাসপাতালে ইনফ্লুয়েঞ্জায় ভর্তি রোগীর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনই স্বস্তিতে নেই স্বাস্থ্যখাত। কারণ, তাপমাত্রা আরও নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ৩,০৬১ ফ্লু রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন—যা আগের সপ্তাহের ৩,১৪০ জনের তুলনায় সামান্য কম। তবুও এনএইচএস জানিয়েছে, হাসপাতালের ৯৫ শতাংশ বেড ভরতি, যা নিরাপদ সীমার অনেক উপরে। এ অবস্থায় নতুন রোগীর ঢেউ আসলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি (UKHSA) বুধবার রাত ৮টা থেকে আসছে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারী ২০২৬) সকাল ১০টা পর্যন্ত পুরো ইংল্যান্ডের জন্য অ্যাম্বার সতর্কতা জারি করেছে। এর আগে শুধু উত্তর-পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডে অ্যাম্বার সতর্কতা ছিল, বাকিগুলো ছিল ইয়েলো সতর্কতায়। অ্যাম্বার লেভেল সাধারণত তখনই জারি হয় যখন আবহাওয়া স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

UKHSA–এর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ ডা. পল কোলম্যান সতর্ক করে বলেন, আগামী কয়েক দিন “খুব শীতল” আবহাওয়া থাকবে। তার ভাষায়, “এ ধরনের তাপমাত্রা বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠ ও গুরুতর অসুস্থদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। ঠান্ডা হৃদরোগ, স্ট্রোক ও শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই এ সময়ে ঝুঁকিপূর্ণ বন্ধু, প্রতিবেশী ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নেওয়া খুবই জরুরি।”

এনএইচএসের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, ২১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১১৭ জন ফ্লু রোগী আইসিইউ বেডে ছিলেন—যা আগের সপ্তাহের ১২৮ জন থেকে কম। অন্যদিকে, নোরোভাইরাস বা ডায়রিয়া-উল্টি উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৮৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন, আগের সপ্তাহে এই সংখ্যা ছিল ৪২৭।

এনএইচএস ইংল্যান্ডের মেডিকেল ডিরেক্টর অধ্যাপক মেঘনা পণ্ডিত জানান, “কিছুটা উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও স্বাস্থ্যসেবা এখনো ‘অস্বাভাবিক চাপের’ মধ্যে। চাপ এখনও অত্যন্ত বেশি, আর ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকিও রয়ে গেছে।”

স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং এনএইচএস কর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করে বলেন, “এখনও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়, ফ্লুই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।”

এনএইচএস কনফেডারেশনের পরিচালক ররি ডেইটন জানান, মৌসুমি ভাইরাসের কারণে এখনও বিপুল সংখ্যক রোগী সেবা নিচ্ছেন এবং প্রায় ৯৫ শতাংশ বেড দখল—যা নিরাপদ সীমার অনেক ওপরে। এছাড়া সামাজিক ও কমিউনিটি কেয়ারের ঘাটতির কারণে অনেক রোগী সুস্থ হয়েও হাসপাতালে আটকে আছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।