যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের দিকে এগোনো উচিত। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ব্রেক্সিট-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে সরকার আরও বাস্তববাদী অবস্থান নিতে প্রস্তুত।
বিবিসির লরা কুয়েন্সবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্যার কিয়ার বলেন, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কাস্টমস ইউনিয়নের চেয়ে ইউরোপীয় সিঙ্গেল মার্কেটের দিকে নজর দেওয়া বেশি কার্যকর হতে পারে। এতে করে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তিগুলো সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরকার সরে আসছে না। যুক্তরাজ্য ইইউর সিঙ্গেল মার্কেট বা কাস্টমস ইউনিয়নে পুনরায় যোগ দেবে না, অবাধ চলাচল (ফ্রিডম অব মুভমেন্ট) ফিরিয়ে আনা হবে না—এই অবস্থান বহাল থাকবে বলে জানান তিনি।
স্টারমার বলেন, “আমি মনে করি আমাদের ইউরোপের সঙ্গে আরও কাছাকাছি যেতে হবে। যদি জাতীয় স্বার্থে সিঙ্গেল মার্কেটের সঙ্গে আরও গভীর সমন্বয় প্রয়োজন হয়, তাহলে তা বিবেচনা করা উচিত। আমার বিশ্বাস, জাতীয় স্বার্থেই আমাদের আরও এগোনো দরকার।”
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের সঙ্গে ইতোমধ্যে জাতীয় স্বার্থে বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যৎ সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কাস্টমস ইউনিয়নের বদলে সিঙ্গেল মার্কেটের দিকে তাকানোই যুক্তরাজ্যের জন্য ভালো হবে এবং অর্জিত স্বার্থ ত্যাগ করা যুক্তিযুক্ত নয়।
এদিকে কনজারভেটিভ পার্টি এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেছে, যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য ব্রেক্সিটকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছেন প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমানে যুক্তরাজ্য খাদ্য ও কৃষিপণ্যের কিছু নিয়মে ব্রাসেলসের সঙ্গে সামঞ্জস্য করছে, যাতে ইউরোপীয় সিঙ্গেল মার্কেট নামে পরিচিত অর্থনৈতিক বাণিজ্য অঞ্চলে প্রবেশাধিকার বজায় রাখা যায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্যার কিয়ার স্টারমারের এই বক্তব্য ইউরোপের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ করার স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি