ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে রাজধানী কারাকাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে আটক করার ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করতে স্পষ্টভাবে এড়িয়ে যাচ্ছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।
লেবার পার্টির নির্বাচনী ইশতেহারের ১১৭ নম্বর পাতায় দলটি নিজেকে “আন্তর্জাতিক আইনের শাসনের রক্ষক” হিসেবে তুলে ধরার প্রতিশ্রুতি দিলেও, এই ঘটনায় স্টারমারের প্রতিক্রিয়া ছিল সংযত ও সতর্ক। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শুধু ভেনেজুয়েলায় “ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ রূপান্তর”-এর পক্ষে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন কি না—সে বিষয়ে স্পষ্ট মন্তব্য করেননি।
ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরুর আগেই স্টারমার সিদ্ধান্ত নেন যে তিনি হোয়াইট হাউসের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করবেন না। তার কৌশল হলো—জনসমক্ষে বিতর্ক এড়িয়ে ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষা করা। এ কারণেই মাদুরো আটক হওয়ার পর এখনো ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।
স্টারমারের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সুফল ইতোমধ্যে মিলেছে। উদাহরণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেন, গত বছর মার্কিন শুল্কনীতির প্রভাব কমাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে হওয়া একটি চুক্তির কথা, যা জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারসহ হাজারো ব্রিটিশ চাকরি রক্ষা করেছে।
তবে এই নীরবতাকে ভালোভাবে নেননি সবাই। লেবার পার্টির ভেতর থেকেই কিছু এমপি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিরোধী দল লিবারেল ডেমোক্র্যাট, এসএনপি এবং গ্রিন পার্টি সরাসরি ট্রাম্পের সমালোচনা না করায় স্টারমারের অবস্থানকে দুর্বল বলে আখ্যা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, “যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের কাজের ব্যাখ্যা দিতে বলা” মানে ট্রাম্পকে নিজেই নিজের বিচারক হওয়ার সুযোগ দেওয়া।
অন্যদিকে কনজারভেটিভ নেতৃত্ব ও তাদের বেশ কয়েকজন এমপি সরকারের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের মতে, যুক্তরাজ্যের স্বার্থে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে প্রকাশ্য সংঘাতে যাওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
লেবার এমপিদের মধ্যেও মতভেদ থাকলেও বড় ধরনের বিদ্রোহ এখনো দেখা যায়নি। একজন এমপি বলেন, “ট্রাম্প একজন অনিশ্চিত ও বিপজ্জনক খেলোয়াড়। এই পরিস্থিতিতে স্টারমারের খুব হিসেব করে এগোনো ছাড়া উপায় নেই।”
সব মিলিয়ে, মাদুরো ইস্যুতে নৈতিক অবস্থান ও বাস্তব কূটনীতির ভারসাম্য রক্ষাই এখন স্টারমারের জন্য সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র বিবিসি