পালিয়ে দেশ ছেড়েছি, সরকারি লোকরাই সাহায্য করেছে: ড. মোমেন

৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ আত্মগোপন এবং দেশত্যাগের রোমহর্ষক অভিজ্ঞতা নিয়ে মুখ খুলেছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সম্প্রতি একটি ভার্চ্যুয়াল সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, দেশ ছাড়ার ক্ষেত্রে তাকে খোদ সরকারি কর্মকর্তারাই সহায়তা করেছেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রায় আট মাস দেশে আত্মগোপনে থাকার পর বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। সম্প্রতি ইউটিউবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘বাংলা নিউজ নেটওয়ার্ক’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি তার পালিয়ে থাকা এবং দেশত্যাগের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন।

নিজের পালিয়ে থাকার সময়কালকে একটি ‘সিনেমার গল্পের’ সাথে তুলনা করে ড. মোমেন বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ধরা পড়ার ভয়ে তিনি দীর্ঘ সময় দেশে আত্মগোপন করেছিলেন। এই সময়ে তিনি টানা ছয়বার মোবাইল সিম পরিবর্তন করেছেন। চেনা পরিচয় লুকিয়ে রাখতে চেহারায় আমূল পরিবর্তন এনেছেন। নিরাপত্তার স্বার্থে আত্মীয়-স্বজনদের বাসা এড়িয়ে অচেনা মানুষের ভাড়া বাসায় অবস্থান করেছেন।

ড. মোমেন বলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি, তাই পালানোর কথা ভাবিনি। কিন্তু যখন শুনলাম আমার লোকেশন ট্র্যাক করা হচ্ছে, তখন বুঝলাম পালানো ছাড়া উপায় নেই।”

দেশত্যাগের কৌশল সম্পর্কে বিস্ফোরক তথ্য দিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী জানান, তিনি ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করেননি। বরং বিকল্প পথে সীমান্ত পাড়ি দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়ায় তাকে সরকারি লোকরাই সরাসরি সহায়তা করেছেন।

সহায়তাকারীদের পরিচয় গোপন রেখে তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের ধারেকাছে যাওয়া সম্ভব ছিল না। বিভিন্নভাবে পালিয়ে এসেছি। এখনো বিস্তারিত বলছি না, কারণ সরকারি লোকরাই আমাকে সাহায্য করেছে।” তিনি আরও জানান, দালালের মাধ্যমে পালানোর ঝুঁকি না নিয়ে তার স্ত্রীই মূলত এই পুরো প্রক্রিয়ার সমন্বয় করেছিলেন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত ড. মোমেন গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে ছিলেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “দেশটাকে বাঁচাতে হবে। বাংলাদেশকে কোনোভাবেই জঙ্গি রাষ্ট্র হতে দেওয়া যাবে না। এর জন্য সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”