নির্বাচনের আগে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর নির্দেশ, ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভির উদ্যোগ

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র দ্রুত উদ্ধারের ওপর জোর দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা। প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) বৈঠকে তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন, যে করেই হোক নির্বাচনের আগেই এসব অস্ত্র উদ্ধার নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার নিকারের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা আবারও নির্বাচন প্রসঙ্গ তোলেন এবং অবাধ ও নিরাপদ ভোটের পরিবেশ তৈরিতে অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেন।

বৈঠকে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সারা দেশের প্রায় ৪২ হাজার ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৬ হাজার ৫৫২টি কেন্দ্রে আগে থেকেই সিসিটিভি রয়েছে।

তিনি জানান, অতি গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ২১ হাজার ৯৪৬টি ভোটকেন্দ্রে বিশেষ বরাদ্দের আওতায় সিসিটিভি বসানো হবে। এ জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ৭১ কোটি ৯৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে প্রতিটিতে কমপক্ষে ছয়টি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে।

বাকি ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্থানীয় প্রশাসনের উদ্যোগ ও অর্থায়নে সিসিটিভি বসানো হচ্ছে। এই কার্যক্রম ইতোমধ্যে সব জেলায় শুরু হয়েছে এবং কয়েকটি জেলায় প্রায় শতভাগ কেন্দ্রে ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তিনি।

গাজীপুর জেলার অগ্রগতির উদাহরণ তুলে ধরে উপপ্রেস সচিব বলেন, জেলায় মোট ৯৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব কেন্দ্রে অধিকাংশ স্থানে সিসিটিভি বসানো হয়েছে এবং বাকি কেন্দ্রগুলোতেও আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ক্যামেরা স্থাপন শেষ হবে।

তিনি আরও জানান, সারা দেশে ২৯৯টি ভোটকেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। এসব কেন্দ্রে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ভোটের দিন জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের দায়িত্ব একটি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা।

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে তিনি বলেন, ভোট নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা নেই। নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন হবে। তার ভাষায়, “নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি হবে, একদিন আগেও না, একদিন পরেও না।”

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বিষয়ে গঠিত অধিদপ্তরকে ভূতাপেক্ষ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা বিভাগ একীভূত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনর্গঠনের বিষয়টিও ভূতাপেক্ষ অনুমোদন পেয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে ডিএমপির অধীনে ৫০টি থানা থাকায় এটিকে আরও কার্যকর করতে উত্তর ও দক্ষিণসহ একাধিক অংশে ভাগ করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা হলেও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানান প্রেস সচিব।