যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তুরস্কে আলোচনায় সম্মতি ইরানের, হুমকি বন্ধের শর্ত পেজেশকিয়ানের

নিউজ রিপোর্ট: ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান চলতি সপ্তাহে তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসার অনুমোদন দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে নতুন করে কোনো ধরনের হুমকি না দেওয়ার সতর্কবার্তা দিয়েছেন।

সূত্র জানায়, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যেই তুরস্কে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইরানে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের পর যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতি ঘটে।

আলোচনায় ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আবারও সমঝোতার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই নতুন করে একটি পারমাণবিক চুক্তির জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এদিকে মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) উভয় দেশকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছে। এর আগে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, চুক্তি না হলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জানান, তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে “ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক আলোচনার” প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো ধরনের হুমকি বা অযৌক্তিক প্রত্যাশার পরিবেশে আলোচনা হবে না।

গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প ইরানে বিক্ষোভকারীদের হত্যা বা ফাঁসি কার্যকর হলে সামরিক হামলার হুমকি দিলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো সে ধরনের কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। তবে চাপ বাড়াতে মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীসহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়।

গত জুনে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার পর সরাসরি সংঘাতে জড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সেই পথে যাননি। বরং সাম্প্রতিক সময়ে তিনি দাবি করেছেন, ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” চালিয়ে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কে সম্ভাব্য এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কে নতুন মোড় আনতে পারে, যদিও হুমকি ও চাপের রাজনীতি বন্ধ না হলে অগ্রগতি কঠিন হবে।

source : the telegraph