“এটি ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের ভোট”—পিরোজপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান

নিউজ রিপোর্ট: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচন কোনো গতানুগতিক নির্বাচন নয়। এটি মা-বোনের সম্মান রক্ষা, শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের নির্বাচন।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় পিরোজপুর সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা একসময় ১০ টাকায় চাল দেওয়ার কথা বলেছিল। এখন আরেক দল ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা বলছে। এই ফ্যামিলি কার্ডও ১০ টাকার চালের মতোই ধাপ্পাবাজি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাইতে যাওয়া নারীদের পোশাক খুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অথচ সংশ্লিষ্ট দলের নেতারা এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “হাদি, আবু সাঈদ ও মুগ্ধরা বলেছিল, এই দেশে আর কোনো বৈষম্য থাকবে না। সেই কারণেই তাদের হত্যা করা হয়েছে।” উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, “এই হত্যার বদলা নিতে আমরা দুটি ভোট চাই—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট, আরেকটি ইনসাফের রাষ্ট্র গঠনের ভোট। ‘হ্যাঁ’ মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি।”

পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, “ইনসাফের রাষ্ট্র কায়েম করে ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচারকারীদের কাছ থেকে সেই অর্থ উদ্ধার করে দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে।” একই সঙ্গে তিনি ভোট চুরি ও ভোট কেনাবেচার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।

বেকার ভাতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ভাতা নয়, বেকার যুবকদের হাতে সম্মানজনক কাজ তুলে দিতে চাই।” তিনি জানান, যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে এবং কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য থাকবে না।

মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “নিরপরাধ শহীদ মাওলানা সাঈদীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার অপরাধ ছিল কোরআনের বাণী প্রচার করা।” এ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে ভোটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচিত হলে চাঁদাবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা শাসক নয়, জনগণের সেবক হয়ে দেশ পরিচালনা করতে চাই।” তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ ১৩ ফেব্রুয়ারি হবে ইনসাফের বাংলাদেশের নতুন সূর্যোদয়। দেশ কোনো দলের নয়, দেশ ১৮ কোটি মানুষের।”

জনসভায় পিরোজপুরের তিনটি আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের পক্ষে ভোট চান তিনি।

জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ তাফাজ্জল হোসেন ফরিদের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের নেতৃবৃন্দ।

শুক্রবার সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে নারী-পুরুষ ব্যানার, ফেস্টুন ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মিছিল সহকারে জনসভাস্থলে জড়ো হন। দুপুরের মধ্যেই সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। “ন্যায়ের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন”—স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে।