২৫ ফেব্রুয়ারি: ২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডির বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় নতুন করে আসামির তালিকা বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মামলার চিফ পাবলিক প্রসিকিউটর বোরহান উদ্দিন। সাক্ষীদের জবানবন্দিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ আওয়ামী লীগের একাধিক সাবেক মন্ত্রী-এমপি ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের নাম উঠে এসেছে বলে তিনি জানান। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আলোচনা শেষে তাদের মামলায় অন্তর্ভুক্ত করার পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পিলখানায় তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) সদস্যদের বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ মোট ৭৪ জন নিহত হন। ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার বিচার সম্পন্ন হলেও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি প্রায় ১৭ বছর ধরে বিচারাধীন রয়েছে।
বর্তমানে মামলাটি ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী আদালতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক ড. মো. আলমগীরের আদালতে চলছে। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি দুই সেনা কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ১,৩৪৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩০২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সাক্ষীর জবানবন্দিতে উল্লিখিত রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে বলে প্রসিকিউশন সূত্র জানায়। বিস্ফোরক আইনের মামলায় বর্তমানে আসামি ৮২২ জন; এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন জামিনে এবং বাকিরা কারাগারে আছেন।
পিলখানা ট্র্যাজেডির ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে প্রথমে চকবাজার থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়, পরে সেগুলো নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। সিআইডি ২০১০ সালের ১২ জুলাই হত্যা মামলায় এবং ২৭ জুলাই বিস্ফোরক মামলায় চার্জশিট দাখিল করে। ২০১১ সালে হত্যা মামলার বিচার শুরু হলেও বিস্ফোরক মামলার বিচার দীর্ঘ সময় স্থগিত ছিল।
হত্যা মামলায় ২০১৩ সালে ঢাকার নিম্ন আদালতের রায়ে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর হাইকোর্টের আপিল রায়ে ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে, আটজনের সাজা কমে যাবজ্জীবন হয় এবং চারজন খালাস পান। এছাড়া ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন ও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়; ২৮৩ জন খালাস পান। হত্যা মামলাটি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ফয়সাল হোসাইন বলেন, বিস্ফোরক আইনের মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি চান তারা। এখনো কোনো আসামির জামিন হয়নি; নিম্ন ও উচ্চ আদালতে একাধিকবার জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। পরবর্তী ধার্য তারিখে সব আসামির পক্ষ থেকে আবারও জামিন আবেদন করা হবে বলে জানান তিনি।
