ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরাইলের যৌথ হামলা: ট্রাম্পের ভাষায় ‘বড় ধরনের সামরিক অভিযান’

আন্তর্জাতিক উত্তেজনার চরম মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানের ভূখণ্ডে বড় মাত্রার সামরিক হামলা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে “বড় ধরনের সামরিক অভিযান” হিসেবে উল্লেখ করে ইরানের সরকারি বাহিনীকে অবিলম্বে অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইরানের একাধিক শহরে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে নির্ভুল ও শক্তিশালী হামলা চালাচ্ছি। এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা এবং ইরানি নেতৃত্বকে বোঝানো হচ্ছে যে, তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা মেনে নেওয়া হবে না।”

এর আগে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এক জরুরি ভাষণে দাবি করেন, ইরানের আসন্ন হামলার সম্ভাবনা রুখতে ইসরাইল “প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ” (Pre-emptive strike) শুরু করেছে। তেহরানসহ বেশ কয়েকটি কৌশলগত শহরে হামলার লক্ষ্যবস্তুতে বিমান বিধ্বংসী বাহিনীর গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে কূটনৈতিক তৎপরতা ও হুমকির পর এই হামলা চালানো হলো। এই হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে এক বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরান এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের কোনো পরিসংখ্যান বা সামরিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ না দিলেও টেলিভিশন সম্প্রচারে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল এই হামলার নিন্দা ও তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। তবে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা পুরোপুরি ধ্বংস না করা পর্যন্ত এই অভিযান চলবে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।