সময়ের সঙ্গে বারবার নিজেকে বদলে নেওয়া এক কিংবদন্তি: লিওনেল মেসির মহত্বের আসল গল্প

ফুটবল বিশ্বে লিওনেল মেসির মহত্বকে শুধু ট্রফি, গোল কিংবা ব্যক্তিগত পুরস্কারের সংখ্যায় সীমাবদ্ধ করা যায় না। গত দুই দশকে ফুটবল কৌশল ও গতির দিক থেকে যতবার পরিবর্তিত হয়েছে, মেসিও ততবার নিজেকে নতুনভাবে গড়ে তুলে প্রমাণ করেছেন কেন তিনি সর্বকালের সেরাদের একজন।

ক্যারিয়ারের শুরুতে মেসি ছিলেন বিস্ফোরক গতির এক উইঙ্গার। ডান প্রান্ত থেকে বল নিয়ে প্রতিপক্ষের একাধিক ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল করার ক্ষমতা তাঁকে দ্রুত বিশ্ব ফুটবলের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসে।

পরবর্তীতে বার্সেলোনার সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার অধীনে মেসি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল ‘ফলস নাইন’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রচলিত স্ট্রাইকারের ভূমিকা বদলে মাঝমাঠ ও আক্রমণের সংযোগস্থলে খেলে তিনি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে বিভ্রান্ত করতেন এবং একই সঙ্গে গোল করা ও করানোর দায়িত্ব পালন করতেন।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর খেলার ধরনেও আসে নতুন পরিবর্তন। শারীরিক গতির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন দলের মূল প্লে-মেকার বা ‘এংগাঞ্চে’। মাঝমাঠ থেকে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ, নিখুঁত পাস এবং সুযোগ তৈরি করার মাধ্যমে তিনি ম্যাচের ছন্দ নির্ধারণ করতে শুরু করেন।

আর্জেন্টিনার জার্সিতে একের পর এক ফাইনাল হারার হতাশাও মেসিকে থামাতে পারেনি। বরং ২০২১ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপ জয়ের পথে দেখা গেছে তাঁর আরেকটি নতুন রূপ। তিনি হয়ে ওঠেন আরও আগ্রাসী, আবেগপ্রবণ এবং লড়াকু এক অধিনায়ক, যিনি নিজের নেতৃত্বে পুরো দলকে অনুপ্রাণিত করেছেন।

বর্তমানে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলছেন প্রায় ৩৯ বছর বয়সী মেসি। আগের মতো পুরো মাঠজুড়ে দৌড়াতে না পারলেও তাঁর ফুটবল বুদ্ধিমত্তা, খেলা পড়ার ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এখনও তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে রেখেছে। অনেক সময় হাঁটতে হাঁটতেই তিনি প্রতিপক্ষের দুর্বলতা খুঁজে বের করেন এবং মুহূর্তের মধ্যে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন।

মেসির আসল জাদু এখানেই। তিনি শুধু একজন অসাধারণ ফুটবলার নন, বরং সময়ের সঙ্গে নিজেকে বারবার নতুন করে আবিষ্কার করতে পারা এক বিরল ক্রীড়াবিদ। আর সেই কারণেই তাঁর মহত্বকে শুধুমাত্র গোল বা ট্রফির হিসাব দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয়।