পহেলা বৈশাখের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রম চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রাথমিক পর্যায়ে ৯টি উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। বুধবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে কৃষক কার্ড চালু সংক্রান্ত গঠিত কমিটির বৈঠক শেষে কৃষিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, পহেলা বৈশাখের মধ্যেই এই কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। শুরুতে এটি পাইলট প্রকল্প হিসেবে কয়েকটি উপজেলায় চালু করা হবে। তিনি জানান, এই কার্ডের মাধ্যমে মূলত প্রান্তিক কৃষকদের বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হবে, যা অনেকটা ফ্যামিলি কার্ডের মতো কাজ করবে। কৃষিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে উৎপাদন, ভোক্তা, কৃষিজমি ও কৃষিপণ্যের তথ্য নিয়মতান্ত্রিকভাবে সংরক্ষণ করা যাবে এবং সরকারের কাছেও সঠিক তথ্য পৌঁছাবে। এর ফলে কৃষি খাতের কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
ই-হেলথ কার্ড চালুর নির্দেশ
এদিকে দেশের জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ‘ই-হেলথ’ কার্ড চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ই-হেলথ কার্ড চালুর কাজ দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পরিত্যক্ত ভবন চিহ্নিত করে সেগুলোকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। তিনি জানান, শুধু এলজিইডিরই প্রায় ১৭০টি পরিত্যক্ত ভবন রয়েছে, যেগুলোকে ক্লিনিক বা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয় তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ৩৪ লাখ নবজাতক জন্মগ্রহণ করে। এ পরিস্থিতিতে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে আরও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রায় ৭৪ হাজার শূন্য পদে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়। দুর্গম এলাকাগুলোতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্যও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মে মাস থেকে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা
এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণে আগামী মে মাস থেকে সারা দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু করবে সরকার।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী জানান, তৈরি পোশাক খাতের পর কার্বন ট্রেডিংকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের বিষয়েও সরকার অবগত রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
