সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র উদ্যোগে ৩০০ অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী বিতরণ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলায় মানবিক উদ্যোগের আরেকটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের সংগঠন সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে। সংগঠনটির উদ্যোগ ও অর্থায়নে উপজেলার সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের তিন শতাধিক অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) দুপুরে সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের বুধরাইল উপ-স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সমাজসেবক এবং বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। প্রবাসে অবস্থান করেও এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার জন্য বক্তারা সংগঠনটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে’র প্রেসিডেন্সিয়াল মেম্বার শেখ ফারুক আহমেদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন সমাজসেবক জিয়াউল হক জিয়া ও আবু তাহের । অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন কারি ছালিক আহমেদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক সফল চেয়ারম্যান রোটারিয়ান আলহাজ্ব আতাউর রহমান। তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের মাধ্যমে তারা গ্রামীণ সমাজে সহমর্মিতা ও সহযোগিতার এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন।

তিনি আরও বলেন, সমাজের অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ দায়িত্ব। সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে যেভাবে ধারাবাহিকভাবে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি এ ধরনের মানবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তা ও উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন প্রবীণ মুরব্বি হাজি কাঁচা মিয়া ও সুনু মিয়া, সমাজসেবক শিক্ষা অনুরাগী আবু তাহিদ, বাবুল আহমেদ বাবু, আব্দুস সালাম মোরাতাবাদী, সাবেক ইউপি সদস্য রুহুল আমিন রুয়েল, কয়ছর মিয়া, শাহীন তালুকদার, আশ্বাদুর রহমান, শিপন মিয়া, আলাল হক, এলাইস মিয়া, আব্দুল গফফার, কমলা মিয়া, আইন উদ্দিন, আব্দুল বারিক, সমাজকর্মী জংগীনুর জীবন, মকবুল হোসেন, আব্দুস সাত্তার, মোয়াজ তালুকদার এবং মোহাম্মদ রাইম মিয়াসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, কিছুদিন আগেও সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে একই ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের প্রায় ১৫০টি দরিদ্র পরিবারকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে ছাগল উপহার দিয়েছিল। সেই উদ্যোগ অনেক পরিবারের জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আবারও তিন শতাধিক পরিবারের মাঝে প্রায় ২০ কেজি করে ইফতার ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা সংগঠনটির মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও দায়িত্ববোধেরই প্রমাণ।

তারা আরও বলেন, প্রবাসীরা দূরে থাকলেও তাদের হৃদয় সবসময় নিজ গ্রামের মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক উদ্যোগের মাধ্যমে তারা নিয়মিতভাবে এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। এর ফলে সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হচ্ছে। ত্রাণ হিসেবে বিতরণ করা প্রতিটি প্যাকেজে রমজানে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও ইফতার সামগ্রী ছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিরা নিজ হাতে রোজাদার পরিবারের মাঝে এসব প্যাকেজ তুলে দেন। খাদ্যসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগী পরিবারগুলো আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ত্রাণ পাওয়া কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, প্রবাসে থাকলেও এলাকার মানুষকে তারা কখনো ভুলে যান না। নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তা ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়ান। তাদের এই ভালোবাসা ও সহমর্মিতার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করেন উপকারভোগীরা।

উল্লেখ্য, সার্কেল ২৫ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে মূলত সৈয়দপুর-শাহারপাড়া ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের যুক্তরাজ্যপ্রবাসীদের একটি সামাজিক সংগঠন। গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে সংগঠনটি শিক্ষা সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র সহায়তা এবং বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। মানবিক সহায়তার ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংগঠনটি ইতোমধ্যে এলাকার মানুষের আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, সমাজের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই সংগঠনটির প্রধান লক্ষ্য এবং সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রবাসীরা সবসময় একসঙ্গে কাজ করে যাবেন।