সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার গুঞ্জন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কথিত সরকারি নথিকে ঘিরে সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির খবর আলোচনায় এসেছে। তবে নথিটির আনুষ্ঠানিক সত্যতা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়েছে, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুদান এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বলা হয়, কিছু আর্থিক অসংগতি ও দ্বৈত বাজেটের প্রাথমিক সত্যতা মিলেছে।

নথির একটি অংশে উল্লেখ করা হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা এবং প্রয়োজন হলে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা, ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাইয়ের কথাও বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী-এর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করা কথিত ওই নথিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিল, স্মারক নম্বর এবং উপসচিব মোহাম্মদ গোলাম কবির-এর স্বাক্ষর রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেটে ভুয়া সরকারি নথি ছড়িয়ে পড়ার নজির থাকায় এটির সত্যতা যাচাই জরুরি।

এদিকে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় তদন্তের জন্য অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ খালেদ হাসান-এর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। কমিটিতে দুদক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধিরা রয়েছেন এবং তাদের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তিনি লেখেন, “সাংবাদিকতার ইজ্জত শেষ করা ছাড়া কিছু পত্রিকা থামবে না… এটি সাংবাদিকতার স্বাধীনতার নাম হতে পারে না।” একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক সমাজকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।