মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলা: মালয়েশিয়ায় বেসরকারি খাতে ওয়ার্ক ফ্রম হোমের পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

আহমাদুল কবির, মালয়েশিয়া:

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম চলমান মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের বেসরকারি খাতকে সাময়িকভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম (ডব্লিউএফএইচ) ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন।
২৬ মার্চ সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে তিনি জানান, সরকারি খাতেও ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট কিছু কর্মী গোষ্ঠীর জন্য ডব্লিউএফএইচ চালু করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারি খাতের পাশাপাশি আমরা বেসরকারি খাতকেও আহ্বান জানাই, যাতে তারা ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানি ও ব্যাংক যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা অনুসরণ করে।
ভাষণে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক নৌপরিবহন রুটে বিঘ্ন এবং তেল-গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তার বিষয়টি তুলে ধরেন। এই পরিস্থিতিতে সরকার কয়েকটি অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো BUDI95 কর্মসূচির আওতায় ভর্তুকিযুক্ত RON95 পেট্রোলের মাসিক কোটা ৩০০ লিটার থেকে কমিয়ে ২০০ লিটার নির্ধারণ করা। এই পরিবর্তন আগামী মাস থেকে কার্যকর হতে পারে।
অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বও পালনকারী প্রধানমন্ত্রী জানান, তেলের দাম, সরবরাহ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত এসব ব্যবস্থা সাময়িকভাবে বহাল থাকবে।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে সরকারি মুখপাত্র ফাহমি ফাদজিল জানিয়েছিলেন, সরকারি খাতে ডব্লিউএফএইচ ব্যবস্থা চালুর একটি প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকেই অনেক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম আরও জানান, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে সরকার আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপচয় ও দুর্নীতি (লিকেজ) বন্ধে কাজ চালিয়ে যাবে। বৈশ্বিক অর্থনীতি মন্দার মুখে থাকলেও মালয়েশিয়া তার প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপের ফলে দেশটি এখনও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে রয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে তিনি আরও ঘোষণা দেন, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব মূল্যায়নে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
এই কমিটির নেতৃত্ব দেবেন অর্থমন্ত্রী (দ্বিতীয়) আমির হামজা আজিজান। তার সঙ্গে থাকবেন অর্থনীতি বিষয়ক মন্ত্রী আকমল নাসরুল্লাহ মোহাম্মদ নাসির এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রীরা।
সরকারের এসব পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও মালয়েশিয়ার অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা।