মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ ও আলোচনা নতুন করে তীব্র হয়েছে। তার মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্ম Truth Social-এ দেওয়া বক্তব্যে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা ও অধৈর্যের ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর আগের মতো সহায়তায় এগিয়ে আসবে না; বরং নিজেদের স্বার্থে তাদেরই পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলোকে Strait of Hormuz-এ গিয়ে জ্বালানি নেওয়ার পরামর্শ দেন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এই মন্তব্য কার্যত একটি ঝুঁকিপূর্ণ সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত বহন করে। যদি কোনো দেশ ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার বা জ্বালানি স্থাপনা দখলের চেষ্টা করে, তবে তা সরাসরি সংঘাতের দিকে পরিস্থিতিকে ঠেলে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাহারা বা এসকর্ট মিশনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন, তবে তার আশ্বাসে আস্থা রাখছে না অনেক দেশই।
বাস্তবতা হলো, এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে Iran-এর প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত শক্তিশালী। এখন পর্যন্ত এমনকি মার্কিন যুদ্ধজাহাজও সরাসরি এই নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করার ঝুঁকি নেয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মিত্র দেশগুলো কেন অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিতে যাবে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র, যার মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। Persian Gulf এবং Gulf of Oman-এর সংযোগস্থল এই প্রণালিতে যেকোনো উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প দাবি করে আসছেন যে ইরানের সঙ্গে ‘খুব ভালো’ আলোচনা চলছে, তবে তার পক্ষে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ এখনো উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত থাকায় কোনো দেশই সরাসরি সংঘাতে জড়াতে আগ্রহী নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, আরেক পোস্টে ট্রাম্প France-কে ‘অত্যন্ত অসহযোগিতামূলক’ বলে সমালোচনা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে বৈশ্বিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে তিনি ক্রমেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন এবং মিত্রদের সমর্থন না পেয়ে সামাজিক মাধ্যমে হতাশা প্রকাশ করছেন।
