লন্ডন বাংলা টাইমস | অনলাইন:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে বড় ধরনের কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত করার ঘোষণা দেওয়ার পর তা স্বাগত জানিয়েছে ইরান-এর সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। একইসঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসরায়েল।
এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে—তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অগ্রগতি
পাকিস্তান-এর মধ্যস্থতায় ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনায় সম্মতি জানিয়ে ট্রাম্প একতরফাভাবে সাময়িক হামলা বন্ধের ঘোষণা দেন। জানা গেছে, ইসলামাবাদ-এ দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে দুই সপ্তাহের মধ্যে একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মার্কিন সময় মঙ্গলবার রাত ৮টার কিছু আগে এবং বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টার কাছাকাছি ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক মাধ্যম Truth Social-এ পোস্ট দিয়ে ১৫ দিনের জন্য হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেন। পরে হোয়াইট হাউস বিষয়টি নিশ্চিত করে।
ইরানের আনুষ্ঠানিক সায়
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহর নিউজের বরাতে জানা গেছে, দেশটির সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি-এর অনুমোদনেই এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হচ্ছে। ইরান এই চুক্তিকে নিজেদের ‘বিজয়’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে।
শর্ত: হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে হবে
তবে এই যুদ্ধবিরতির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। এই শর্ত পূরণ হলেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
ইসরায়েলের সম্মতির ইঙ্গিত
মার্কিন ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিলে সেই মুহূর্ত থেকেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে রাজি হয়েছে ইসরায়েল। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর পক্ষ থেকেও কোনো নির্দেশ জারি হয়নি।
কূটনীতিতে পাকিস্তানের ভূমিকা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনির-এর অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তারা হামলা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।
শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ এক পোস্টে বলেন, চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আশাব্যঞ্জক এবং একটি টেকসই সমাধানের জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন।
সামনে কী?
দুই সপ্তাহের এই সাময়িক যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে চূড়ান্ত সমাধান কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও শর্ত পূরণের ওপর।
