বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের আধিপত্যে ধাক্কা, ইউয়ানে লেনদেনে বড় সাফল্য চীনের

বিশ্ব বাণিজ্যে মার্কিন ডলারের প্রভাব কমিয়ে নিজেদের মুদ্রা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর প্রচেষ্টায় বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছে চীন। এবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানি BHP Group চীনের সঙ্গে নতুন চুক্তিতে আংশিকভাবে ইউয়ানে লৌহ আকরিকের মূল্য গ্রহণে সম্মত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পুরো লেনদেনই ডলারে হলেও এই পরিবর্তনকে বৈশ্বিক খনিজ বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান China Mineral Resources Group-এর চাপ এবং দীর্ঘ সাত মাসের বিরোধের পর এই সমঝোতা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি চীনের পক্ষে আকরিক লোহা আমদানির প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে কাজ করছে।

এর আগে BHP Group সরাসরি চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর সঙ্গে মার্কিন ডলারে চুক্তি বজায় রাখতে চাইলেও বেইজিং ধীরে ধীরে নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেয়। একপর্যায়ে চীন বিএইচপি’র জিম্বলবার আকরিক আমদানিও স্থগিত করে দেয়। পরে বেইজিংয়ে বৈঠকে বসেন কোম্পানিটির বিদায়ী প্রধান নির্বাহী Mike Henry এবং নতুন প্রধান Brandon Craig। সেই বৈঠকের পরই নতুন চুক্তি চূড়ান্ত হয়।

নতুন ব্যবস্থার আওতায় বিএইচপি চীনের নিজস্ব মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। একই সঙ্গে চীনা ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যছাড়ও দিতে সম্মত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

চীনা সংবাদমাধ্যম Caixin জানিয়েছে, এখন থেকে বিএইচপি’র জিম্বলবার আকরিকের মূল্য নির্ধারণে ৫১ শতাংশ পর্যন্ত ইউয়ান এবং চীনের ‘বেইজিং আয়রন ওর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স’ ব্যবহার করা হবে।

এতদিন ধরে বিশ্ব লৌহ আকরিক বাজারে মূল্য নির্ধারণে মার্কিন প্রতিষ্ঠান S&P Global-এর ‘প্ল্যাটস ইনডেক্স’ সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ছিল। তবে চীন দীর্ঘদিন ধরেই নিজেদের সূচক চালুর দাবি জানিয়ে আসছিল।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য বড় খনি প্রতিষ্ঠান Rio Tinto এবং Fortescue আগেই চীনের মূল্য সূচক গ্রহণ করেছিল। তবে বিএইচপি’র মতো বৃহত্তম প্রতিষ্ঠানের এই সিদ্ধান্ত বিশ্ব খনিজ বাজারে চীনের প্রভাব আরও দৃঢ় করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

শুধু লৌহ আকরিক নয়, জ্বালানি তেলের বাজারেও ধীরে ধীরে ডলারের বিকল্প হিসেবে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং খাতেও চীনা মুদ্রায় ঋণ গ্রহণের হার সম্প্রতি রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। কম সুদের সুবিধার কারণে Goldman Sachs-এর মতো বড় মার্কিন ব্যাংকও চীনের অফশোর ঋণবাজারে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি হওয়ায় অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান এখন ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথ খুঁজছে। এই পরিস্থিতিতে চীনের ইউয়ানভিত্তিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ভবিষ্যতে আরও গতি পেতে পারে।